বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

প্রতিমন্ত্রীর সভায় না আসায় ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১৫

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:০৭ এএম

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের কর্মসূচিতে না যাওয়ায় বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের আবাসিক হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা হলের ১৫ শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার দুর্গাপুরে কলেজের ছাত্র হলে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিন শিক্ষার্থীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আতিক শাহরিয়ার, দ্বিতীয় বর্ষের সিফাত হাসান স্বপ্নীল ও আশিকুজ্জামান সজীব।

আহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ইলেকট্রনিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সজীব, সিভিল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আয়নান চৌধুরী, ইইই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইমরান, তৃতীয় বর্ষের মো. রকিব ও অলিফ ইভনে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হলে ফিরে গেছেন।

আহত শিক্ষার্থীরা জানান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সোমবার বিকেল ৪টায় কলেজে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় আবাসিক ছাত্রদের উপস্থিত থাকার জন্য রবিবার রাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি হুমকি দিয়ে আসেন। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যারা কর্মসূচিতে অংশ নেননি তাদের শাসাতে দুই দফা আবাসিক হলে ঢোকেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী পরিচয়ধারীরা। তৃতীয় দফায় রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে শোডাউন করে হলে ঢুকে ছাত্রাবাসের ক্যান্টিনে ভাঙচুরসহ ১৫ শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাকিব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ২৫ জন। সাকিব পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারী হিসেবে কলেজ ক্যাম্পাসে পরিচিত। তার নেতৃত্বে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আশরাফুল, আনাস, মাহিন চৌধুরী, তাসিন, হিমো রাকিব, শাহরিয়ার তানভীর, সিফাতসহ কয়েকজন বহিরাগতও হামলায় অংশ নেন। তবে হামলাকারীদের মধ্যে বহিরাগত ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে মুখোশ পরে ছিলেন বলে জানান আহতরা।

জানা গেছে, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। তবে কলেজে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ সক্রিয়। এর মধ্যে একটি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং অন্যটি বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর। এ দুই গ্রুপের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাকিব ভূঁইয়া। তার দাবি, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ম্যুরাল ভাঙচুরের চেষ্টা চালান বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা। ভাঙচুরে বাধা দিতে গিয়ে দুপক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলেজের সহকারী অধ্যাপক লিটন রাব্বানী বলেন, ‘আমরা আপাতত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এ বিষয়ে আলোচনা করে পরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ওসি আবদুর রহমান মুকুল বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রদের কোটা নিয়ে আন্দোলন চলছে। আন্দোলন কেন্দ্র করে ছাত্রদের মধ্যে গ্রুপ সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ আন্দোলনের পক্ষে এবং অন্য গ্রুপ বিপক্ষে। এ ঘটনা কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্যাম্পাসে হাতাহাতিও হয়েছে। এর জের ধরে নিজেদের মধ্যেই মারামারি হয়। এখন পর্যন্ত তিনজন আহত হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

তবে প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচিতে না যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের বিষয়টি অস্বীকার করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ করেনি। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত