দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে তাজমহলের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে মসজিদ। এরই মধ্যে মসজিদের মূল অবকাঠামো নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মসজিদটি নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন করতে ব্যবহার করা হয়েছে ইতালি, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মূল্যবান মার্বেল পাথর, কাচ ও উন্নতমানের টাইলস। চারটি সুবিশাল মিনারসহ রয়েছে ৩২টি ছোট বড় মিনার। সোনালি রঙের মধ্যে চাঁদতারা, ফুলসহ কারুকাজে সাজানো হয়েছে মিনারগুলো। মসজিদের সামনে নির্মাণ করা হবে নান্দনিক পানির ফোয়ারা।
নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আফতাবগঞ্জ বাজারের পাশে নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদটি নির্মাণ করছেন বিনোদনকেন্দ্র স্বপ্নপুরীর মালিক দেলোয়ার হোসেন ও তার ভাতিজা দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিক। এক একর জমির ওপর নির্মিত মসজিদটিতে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা। নির্মাণকাজ শেষ হলে একসঙ্গে প্রায় চার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন মসজিদে।
দিনাজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আফতাবগঞ্জের হাট আমার বাবার তৈরি। সেই সময়ে মুসল্লিদের কথা বিবেচনা করে যে মসজিদটি করেছিলেন সেটিতে লোক তেমন হতো না। এ কারণে আরেকটি নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। মসজিদকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার- এ মানসিকতা নিয়েই কিন্তু নির্মাণ করা হচ্ছে। মসজিদটা দেখে যেন কেউ বলতে না পারে এর চেয়ে স্বপ্নপুরীই ভালো। এ মানসিকতা থেকেই মসজিদ নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে মসজিদ নির্মাণকাল ১০ বছরে পা দিয়েছে। পুরোপুরি নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও দুই আড়াই বছর সময় লাগতে পারে।’
দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিক বলেন, ‘শুধু বড় মসজিদ নির্মাণ করা নয়, নান্দনিক মসজিদ যেন নির্মাণ করা হয় সে চিন্তা ছিল আমাদের। বিশেষ করে স্বপ্নপুরীর রূপকার হিসেবে আমার চাচা দেলোয়ার হোসেন সারা দেশেই সমাদৃত। তার যেকোনো কাজ শৈল্পিক চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে হয়। মসজিদে যে চারটি মিনার রয়েছে, সেগুলো এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ভূমিকম্প থেকে শুরু করে অন্যান্য দুর্যোগেও এর কোনো ক্ষতি না হয়। এ এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি যেন সুন্দরভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন।’
ঢাকা থেকে এসেছেন আলতাফ হোসেন। মসজিদটি দেখে তিনি মুগ্ধ। আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমরা মসজিদটির কথা লোকমুখে শুনেছিলাম। তাই কয়েকজন মিলে মসজিদটি দেখতে চলে এসেছি। আসলেই মসজিদটি তাজমহলের আদলে নির্মাণ হচ্ছে। এখানে নামাজ আদায় করার পাশাপাশি মসজিদটির নান্দনিক যে কাজ, সেটি আমাদের মুগ্ধ করেছে।’
