পঞ্চগড়ে শেষ সময়ে নিয়োগে তোড়জোড়

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ০২:২৩ এএম

বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে এসে পঞ্চগড়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে রমরমা নিয়োগ বাণিজ্য। জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে চলছে জোর তৎপরতা। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে যে কয়েকটি পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা আছে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাচ্ছে, এমন একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে বলে জানা গেছে।

দুই মাসের ব্যবধানে জেলার শতাধিক প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অফিস সহকারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। আরও কিছু প্রক্রিয়াধীন। এসব নিয়োগের পেছনে হচ্ছে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যই শেষ কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরাসরি স্থানীয় সংসদ সদস্যের তত্ত্বাবধানে তার পছন্দের লোকদের দিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নিয়োগের আগে চলে দর কষাকষি। মেধা বা দক্ষতা যাচাই নয়, কে কত টাকা দেবে, কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা চূড়ান্ত হওয়ার পর পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করা হয়। পরীক্ষার দিন নির্ধারণের সময় কাকে কত টাকা দেওয়া হবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পদ্ধতিগত ক্রটির সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিটি নিয়োগে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এতে মেধাবী ও দক্ষ প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাসহ সবাই জানলেও কারও কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

সূত্র মতে, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি গোপনে উপজেলা পর্যায়ের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ডিজির প্রতিনিধিকে জানিয়ে দেন যে, আমরা অমুককে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছি। এরপর সেভাবে তারা পরীক্ষা ও ভাইভা নিয়ে ফলাফল সভাপতির হাতে দিয়ে সম্মানী নিয়ে চলে যান। এরপর সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ফলাফল প্রকাশ করেন। অনেক ক্ষেত্রে মনোনীত প্রার্থীদের পরীক্ষার আগের দিন রাতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ বা পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এসব নিয়োগে স্থানীয় কিছু নামধারী সাংবাদিকও টাকার ভাগ পায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে মহারথীর কাছে টাকার বান্ডিল যায়। তারপর নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখানে কারও কিছু বলার সুযোগ নেই। হয়রানির ভয়ে আমরা শুধু পরীক্ষা ও ভাইভা নিয়ে ফলাফল প্রতিষ্ঠানের হাতে দিয়ে চলে আসি।’

একজন প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জানান, নানান চাপের কারণে তারা মনোনীতদেরই নিয়োগ দিতে বাধ্য হন।

পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার বলেন, ‘সরকারের শেষ সময় হওয়ায় তড়িঘড়ি নিয়োগ হচ্ছে। সামনে নতুন নিয়ম-কানুন আসে কি না, এই শঙ্কায় ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ সেরে ফেলছেন। এসব নিয়োগে নানা অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে আসে। তদন্ত করে কোনো কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের ক্ষমতা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক কাউকে নিয়োগ দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করেন। ডিজির প্রতিনিধি মনোনীত করতে আমাদের এমপির নির্দেশের অপেক্ষা করতে হয়। এটাই বাস্তবতা। তবে গত মাসে ঢাকায় একটি সেমিনারে আমরা স্বচ্ছতার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএকে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান নিয়োগে হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘নিয়োগের ব্যাপারে আমার সঙ্গে কারও কোনো টাকার লেনদেন হয় না। দুটি প্রতিষ্ঠানে শুধু আমার মনোনীত কমিটি রয়েছে। কিন্তু এরাও কেলেঙ্কারি করেছে। দুয়েকটি নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটিকে বলে কিছু মানুষের সমস্যার নিরসন করে উপকার করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত