৫
সাভারে একটি পরিত্যক্ত কীটনাশক কারখানার সেপটিক ট্যাংকের পানি পুকুরে ফেলায় সব মাছ মরে ভেসে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পূর্বহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পড়াশোনার পাশাপাশি দুই বছর ধরে ৮৫ শতকের ওই পুকুরে মাছ চাষ করছিলেন ওই এলাকার ফেরদৌস ও তানভীর আহমেদ। গতকাল সকালে সব মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে তারা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা দুই বছর ধরে পুকুরে মাছ চাষ করি। কিন্তু আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। শুক্রবার পুকুরের পাশের বাড়ির সানোয়ার হোসেন তার পরিত্যক্ত কীটনাশক কারখানা পরিষ্কার করে ঘর তৈরির সময় সেপটিক ট্যাংকির বিষাক্ত পানি সেচে পুকুরে ফেলেন। এরপর সকালে এসে দেখি পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয় মেম্বারকে জানিয়েছি, তিনি বলেছেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।’
ফেরদৌস বলেন, ‘পুকুরটিতে আমরা সিলভার কাপ, তেলাপিয়া, রুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৮০ মণ মাছ ছেড়েছিলাম গত পাঁচ মাস আগে। বর্তমানে এই মাছের মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকার ওপরে হবে। সকাল থেকে বস্তায় বস্তায় মাছ মাটিচাপা দিয়ে যাচ্ছি। আরও অনেক মাছ এলাকার শতাধিক লোকজন যে যেভাবে পারছে নিয়ে গেছে। মাছগুলো মরে যাওয়ায় আমরা আর্থিকভাবে এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।’ অভিযুক্ত সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের পানি ফেলছি আরও দুদিন আগে। পুকুরটি এমনিতেও ময়লা-আবর্জনায় ভরা। দুদিন আগের ঘটনা, আজকে কেন মাছ মরবে। অন্য কোনো কারণেও মাছ মরতে পারে। বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নির্বাচনী ডিউটিতে আছি। ভুক্তভোগীরা যদি পুকুরের এক বোতল পানি ও একটা মরা মাছ নিয়ে অফিসে আসেন, তাহলে সেটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
