তালমাখনা, স্থানীয়ভাবে কুলেখাড়া নামেও পরিচিত। চমৎকার এই উদ্ভিদ যদিও আমাদের খুবই চেনা, তবে এর ঔষধিগুণ সম্পর্কে সবারই প্রায় অজানা।
উদ্ভিদটির ইউনানি নাম তালমাখনা আর আয়ুর্বেদিক নাম কোকিলাক্ষা। গাছটির মাটির ওপরের অংশে যেসব রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, তা হলো অ্যালকালয়েড, ফাইটোস্টেরল, স্টিগমাস্টেরল, লুপিয়ল, উদ্বায়ী তেল ও হাইড্রোকার্বন। ফুলের মধ্যে এপিজেনিন এবং বীজে তেল ও এনজাইম আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ গাছের মূল ব্যবহার্য অংশ বীজ। এই বীজ পুষ্টিকর, শুক্রবর্ধক ও প্রফুল্লতা ধারক। লিউকোরিয়া, শুক্রমেহ, যৌন দুর্বলতা ও স্নায়বিক দুর্বলতায় বীজ অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষভাবে এই বীজ হজমকারক, বায়ুনিঃসারক ও পাকস্থলীর ব্যথা নিবারক।
পায়ের চোট বা শরীরের কোনো অংশ ফুলে উঠলে ১ টেবিল চামচ তালমাখনা পাতার রস গরম করে দিনে ২ বার খান। সঙ্গে ১ চা চামচ মধু মিশিয়েও খেতে পারে। আরাম পাবেন। কোনো কারণে কেটে গেলে বা রক্তপাত হলে তালমাখনার পাতা থেঁতো করে কাটা জায়গায় চেপে বেঁধে দিন। রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে, ক্ষতও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে তালমাখনার পাতার রস সেদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে সেই পানি খান। এক সপ্তাহের মধ্যে হিমোগ্লোবিনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। অথবা দিনে ২ বার ৪ চা চামচ তালমাখনার পাতার রস সামান্য গরম করে খান।
ঘুমের সমস্যা হলে সন্ধ্যায় ২-৪ চা চামচ তালমাখনার শিকড়ের রস খান। উপকার পাবেন। এর বীজ গুঁড়ো করে গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মির রাতের বেলা খেলে শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজে দেয়।
এ ছাড়া হারপিস হলে এই গাছের পাতা ও কাচা হলুদ একসঙ্গে বেটে লাগান। জ্বালা-যন্ত্রণা যেমন কমবে, ক্ষতও শুকিয়ে যাবে।
