নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমি দখল, হত্যাচেষ্টা ও লুটপাটের অভিযোগে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে আদালতে। গতকাল রবিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দুটির আবেদন করেন ভুক্তভোগী আলী আজগর ভূঁইয়া ও মো. মামুন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কায়সার আলমের শুনানি শেষে মামুনের অভিযোগটি রূপগঞ্জ থানায় সরাসরি এফআইআরের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে আলী আজগর ভূঁইয়ার আবেদনটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে মামুনের মামলায় রফিকসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আলী আজগরের দায়েরকৃত অন্য মামলায় রফিকসহ ৩১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পবিত্র জানান, দুটি মামলার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত একটি মামলার এফআইআর ও আরেকটি মামলা ডিবিতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে মো. মামুন জানান, গত ১৭ নভেম্বর আসামিরা এসে তাদের পাঁচ ভাইয়ের মালিকানাধীন ৯৫ শতাংশ জমি রফিক ও মিজানুরের নামে রেজিস্ট্রি লিখে দিতে হুমকি দেন। অন্যথায় তাদের সবাইকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন তারা। পরে গত ১৯ নভেম্বর সকালে আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে হুমকি-ধমকি দেন। সর্বশেষ গত ২১ নভেম্বর আসামিরা বাদীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করেন এবং ঘরের মালামাল, গাভীসহ প্রায় ১৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে মালগাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যান। এ সময় আসামিরা বসতঘর ও গোয়ালঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় ফের জমি রেজিস্ট্রি করে লিখে দিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন আসামিরা।
অন্য মামলার বাদী আজগর আলী ভূঁইয়া জানান, গত ১৮ নভেম্বর আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। এ সময় আসামিরা দ্রুত জমি তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে লিখে দিতে হুমকি দেন। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান এবং আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যান আসামিরা।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কায়সার আলমের আদালতে শুনানি শেষে মামুনের অভিযোগটি রূপগঞ্জ থানায় এফআইআরের নির্দেশ ও আলী আজগর ভূঁইয়ার আবেদনটি ডিবিতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
