বাজিতপুরের পৌর মেয়রের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:০০ এএম

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসবের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশন সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার সম্পদবিবরণী জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২১ নভেম্বর এ সিদ্ধান্ত হয়। অনুসন্ধান কর্মকর্তা শিগগির হিসাব বিবরণী দাখিলের নোটিস পাঠাবেন। 

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক নারগিস সুলতানা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বাজিতপুর পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ পেয়েছে দুদক। অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য গত ২১ নভেম্বর কমিশন সভায় তার সম্পদ ও দায়-দেনার বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেনের সম্পদবিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করতে অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজিতপুর পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদকের সমন্বিত ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয় থেকে ২০২০ সালের ১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। গত ১৯ জুলাই অভিযোগটির অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পাঠানো হয় কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে। ওই অফিসের উপপরিচালক অভিযোগটির অনুসন্ধান করছেন।

অভিযোগে বলা হয়, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আফজাল হোসেনের ভাই বাজিতপুর পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন। মেয়র তার বড় ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাজ না করেই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বাজিতপুর উপজেলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জমি দখল করে মেয়র ও তার ভাই মার্কেট নির্মাণ করছেন। তিনি বাজিতপুর, সরারচর, দিলালপুর, পিরিজপুরসহ অনেক বাজার নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়েছেন। এলাকার বিভিন্ন নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পান তাদের আত্মীয়স্বজনরা। বিল-হাওর ইচ্ছামতো ব্যবহার করছেন তারা। তাদের দখলে বেঙ্গলা চরবাদা, কইয়া খায়রা, মাইজচর, বাহেরবালী, হুমাইপুর ও ঘোড়াউত্রা নদীর জলমহাল।

অভিযোগ রয়েছে, মেয়র আনোয়ার বাজিতপুরের নোয়াপাড়া গ্রামে প্রতিবেশীদের সরিয়ে দিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে তিনতলা পাকা বাড়ি করেন। স্থানীয় বসন্তপুর মৌজায় সিনামহলের সামনে সরকারি জমিতে পাঁচটি দোকান বানিয়েছেন। দড়িঘাগটিয়া মৌজায় সিনামহলের প্রায় ১৫ শতাংশ জমি, বাজিতপুর বাজারে নাপিতমহলের পুকুর, বাজিতপুর পৌরসভার দড়িঘাগটিয়া মৌজায় প্রায় ২ একর জমি দখল ও বসন্তপুর মৌজায় প্রায় ২৫ শতাংশ জমিতে তিনতলা মার্কেট তৈরি করেছেন। দড়িঘাগটিয়া মৌজায় সিনামহলের প্রায় ১৫ শতাংশ জমি, দড়িঘাগটিয়া মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের দক্ষিণ পাশে প্রায় ২ একর জমি, নান্দিনা আলিয়াবাদ মৌজায় ব্যাপারীপাড়ার প্রায় ২০ শতাংশ জমি, তাতলচর মৌজায় বাজিতপুর-দিলালপুর রাস্তার পশ্চিম পাশে প্রায় ৬০ শতাংশ জমি, গাজীরচর মৌজায় প্রায় ৮ একর জমি, শশেরদীঘি মৌজায় প্রায় ১০ একর ধানি জমি দখল করেছেন তারা। এ ছাড়া বাজিতপুর মৌজায় মতুরাপুর গ্রামের পূর্বপাশে বাবর আলীর বাড়ির পশ্চিম পাশে ২০ শতাংশ জমি দখল করেছেন এবং দীঘিরপাড় মৌজায় মসজিদের ফেরিঘাটের পাটুলীর উত্তর পাশে ২০ শতাংশ জায়গায় দোকান নির্মাণ ও ভাগলপুর মৌজায় মুক্তিযোদ্ধা বিল্লাল মিয়ার জমি দখল করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত