শরীয়তপুরে পা বেঁধে নারীর গায়ে আগুন!

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০২:০৭ এএম

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় এক নারীকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে আগুনে পুড়িয়ে আহত করেছে মাদকাসক্ত এক বখাটে যুবক। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই যুবক এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। গত শনিবার (২৫ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার আধা ঘণ্টা পর গ্রামবাসীরা ওই নারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

ভুক্তভোগী নারীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাগদি গ্রামের ইদ্রিস পাহাড়ের মাদকাসক্ত ছেলে রাসেল পাহাড় (২৩) তিন মাস আগ থেকেই ওই নারীকে প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ওই নারীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন রাসেল। শনিবার রাতে ওই নারী টয়লেটে গেলে তাকে জোর করে ধরে বাঁশ বাগানে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। সেখানে নিয়ে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলে রাসেল ও তাঁর সহযোগী পালিয়ে যান। পরে আগুন থেকে বাঁচতে চিৎকার করতে করতে পাশের পুকুরে ঝাপ দেন ওই নারী। পরে পরিবারের সদস্যরা ও গ্রামবাসীরা ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় রবিবার রাতে ওই নারীর ছোট বোন বাদি হয়ে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ। 

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী শাহ মো. আব্দুল্লাহ (শামীম) বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ওই নারীর শরীরে ৯ থেকে ১০ ভাগ আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি আগের থেকে এখন অনেক ভালো আছেন। 

নির্যাতিত নারী বলেন, ‘‘রাসেল পাহাড় আমাকে উত্ত্যক্ত করত। ঘটনার দিন রাতে রাসেলের সহযোগী আমাকে মুখ চেপে ধরে টয়লেটের পেছনে টেনে নিয়ে যায়। পরে রাসেল চিকন প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে আমার পা বাঁধে। হাতে-পেটে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে, শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আর বলে ‘যেহেতু রাজি হলি না আজ সেটা সফল হয়েছে’। 

শরীয়তপুর পৌরসভার ৬ নম্বর কাউন্সিলর হোসেন মো. আলমগীর মৃধা বলেন, একজন জীবিত মানুষকে আগুনে পুড়াবে এটা মেনে নিতে পারছি না। যারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পরিবারটি যেন সঠিক বিচার পায়- এটাই আমাদের দাবি। 

এদিকে, ঘটনার পর থেকে রাসেলসহ তার পরিবার পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। 

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমরা এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীতে দেখেছি। তিনি সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। দ্রুত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত