মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আজ মঙ্গলবার ঊষালগ্নে সমাপ্ত হলো মণিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা। রাতভর শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা অনুসরণের মাধ্যমে মণিপুরি নৃত্যে লাখো দর্শকদের বিমোহিত করে রাখেন মণিপুরী নারীরা।
রাসোৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়েছিল কমলগঞ্জের মণিপুরী অঞ্চল। ভিড় সামলাতে পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়।
রাসোৎসব উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকাল থেকে গোধূলীলগ্ন পর্যন্ত রাখালনৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। রাসলীলা উন্মুক্তমঞ্চ মাঠে কলাগাছের বেষ্টনীর বৃত্তাকারে এ নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে মাধবপুরে বসেছিল রকমারি আয়োজনে বিশাল মেলা। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আয়োজকেরা জানান, কার্তিকের পূর্ণিমা তিথিতে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মণিপুরিদের প্রধান ধর্মীয় মহোৎসব শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলার আয়োজন করা হয়। কমলগঞ্জের মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ প্রাঙ্গণে মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের উদ্যোগে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের ১৮১তম মহারাসলীলা উৎসবের আয়োজন করা হয়। মণিপুরিদের রাসলীলার অনেক ধরন। নিত্যরাস, কুঞ্জরাস, বসন্তরাস, মহারাস, বেনিরাস বা দিবারাস ইত্যাদি। শারদীয় পূর্ণিমা তিথিতে হয় বলে মহারাসকে মণিপুরিরা পূর্ণিমারাসও বলে থাকেন।
মাধবপুর মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবারের রাসোৎসব আমরা বড় পরিসরেই আয়োজন করেছি। উৎসবে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছিল। প্রায় একমাস আগ থেকেই চলছিল রাসোৎসবের প্রস্তুতি।’
