‘বোমার চেয়ে রোগেই বেশি মানুষ মরবে গাজায়’  

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১০:০২ পিএম

দেড় মাসের ইসরায়েলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনের গাজা এখন ধ্বংস প্রায়। বিমান থেকে ফেলা বোমা,ট্যাংকের গোলা, মিসাইলে ধূলিসাৎ ভবনগুলোর নিচ থেকে মরদেহের গন্ধ বাতাসে। হামলা-অবরোধ ভেঙে পড়েছে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। ওষুধ-টিকার অভাব, নিরাপদ পানির সংকট, অপরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্যাভাবে বিপর্যস্থ অবস্থা গাজার। এ পরিস্থিতি জাতিসংঘের আওতাধীন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ( ডব্লিউএইচও) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের বোমার চেয়েও বেশি গাজাবাসী প্রাণ হারাতে পারে রোগ-ব্যাধীতে।  

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সংস্থাটির মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেন, ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না করা গেলে বোমা হামলার চেয়ে বেশি মানুষ রোগের কারণে মারা যাবে এবং সেটা আমাদের চোখের সামনেই ঘটবে।’আল শিফা হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ‘মর্মান্তিক’ অভিহিত করেছেন হ্যারিস। সেই সঙ্গে হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে আটক করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় এখন যুদ্ধবিরতি চলছে। এর আগে গত শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) পর্যন্ত টানা প্রায় ৭ সপ্তাহ উপত্যকায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে প্রায় ১৫ হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। হাজার হাজার বাড়িঘর ও আবাসিক ভবনের পাশাপাশি বেশিরভাগ হাসপাতাল ধ্বংস করা হয়েছে।

ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, গাজার প্রায় ৮০টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে এখন আর মাত্র তিনটি হাসপাতাল সক্রিয় রয়েছে।এর মধ্যে গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল শিফা হাসপাতালও রয়েছে। হাসপাতালটির পরিচালক আবু সালমিয়া ও কয়েকজন চিকিৎসককেও ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক আছেন। এদিকে পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ না থাকায় বাড়ছে রোগ ও জীবাণুর প্রকোপ।গাজাবাসীকে বাধ্য হয়ে গোসল ও কাপড় ধোয়ার কাজে সমুদ্রের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু এই লবণাক্ত পানি বেশিদিন ব্যবহার করলে চর্মরোগসহ অন্যান্য জটিলতায় পড়বে তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত