আ.লীগের বড় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ০২:২৫ এএম

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৮ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এ তালিকায় বাদ পড়েছেন দলের অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের অনেকে দলীয় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়ন কিনছেন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় অনুসারীদের চাপে বরিশালের সদর-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসন থেকে  স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের  প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

মনোনয়নবঞ্চিত যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন যশোর-৩ (সদর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন। এদিকে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ একেএম সফি আহমদ সলমান। কিন্তু মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। একই অবস্থা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়ার। তিনিও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন কিনেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল সদর-৫ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ও তার অনুসারীরা। কিন্তু দল তাকে মনোনীত করেনি। একপর্যায়ে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার দিন রবিবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডে সাদিক আবদুল্লাহর বাসায় তার অনুসারীরা জমায়েত হন। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সভা চলে। পরে ওই সভায় মধ্যরাতে অনুসারীদের চাপের মুখে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য মতপ্রকাশ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ফরম সংগ্রহ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, রফিকুল ইসলাম খোকন, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল প্রমুখ।

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, দলের সিদ্ধান্ত স্বতন্ত্রভাবে যে কেউ নির্বাচন করতে পারবে। এ সিদ্ধান্ত জানতে পেরে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা, সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সুশীল সমাজের নেতারা সাদিক আবদুল্লাহকে প্রার্থী হওয়ার জন্য চাপ দেন। পরে নেতাকর্মীদের দাবি রক্ষায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-৫ আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বরিশাল সদর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম। তিনি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। বর্তমানে ওই আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল-১ আসনের দলীয় প্রার্থী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৮ সালে দলীয় প্রার্থী হয়ে সিটি নির্বাচন করে জয়ী হন। তবে নানান বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি। তার স্থানে মনোনয়ন দেওয়া হয় তারই আপন ছোট চাচা আবুল খায়ের আবদুল্লাহকে। তিনি নির্বাচিতও হয়েছেন। এরপর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় মনোনয়ন দাবি করেন সাদিক। একই সঙ্গে তার অনুগামী আরও আটজনকে দিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করান। কিন্তু এবারও মনোনয়ন পাননি তিনি।

কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন ও তার ছেলে সাফায়াত বিন জাকির।

গতকাল রৌমারী উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিলহাজ উদ্দিন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম তোলার কথা স্বীকার করেন সাফায়াত বিন জাকির। তিনি বলেন, ‘এলাকাবাসী আমাদের চাচ্ছে। এজন্য মনোনয়নপত্র তোলা হয়েছে।’ এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট বিপ্লব হাসান পলাশকে।

যশোর-৩ (সদর) আসনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে গতকাল দুপুরে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জেলা নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ ছাড়া এ আসন থেকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদকে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন থেকে অংশ নিতে চারজন প্রার্থী এখন পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন অধ্যক্ষ একেএম সফি আহমদ সলমান। তিনি সদ্য উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। এ ছাড়া তৃণমূল বিএনপি থেকে সাবেক এমপি এমএম শাহীন ও সাবেক এমপি মো. আবদুল মতিন স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন কিনেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়া। আওয়ামী লীগের টিকিটে প্রার্থী হতে তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন। এ আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে মুড়াপাড়া এলাকায় উপজেলার পরিষদ ভবনে উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ফয়সাল হকের কাছ থেকে তারা মনোনয়ন ফরম নেন।

এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, রূগপঞ্জ থেকে নির্বাচন করতে নৌকা প্রতীক চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে যাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবে। রূপগঞ্জের সন্তানই রূপগঞ্জের এমপি হোক এটি সাধারণ মানুষ চায়। এ কারণে রূপগঞ্জের মানুষের চাওয়া পূরণ করতেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত