একদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই উপবৃত্তি প্রদান করার ঘোষণা থাকলেও, এর ব্যতিক্রম ঘটছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী সরকারি কলেজে। কলেজটি উপবৃত্তির জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদান না করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিগত বছরগুলোতেও এমন কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে চালিয়ে আসছে।
অপরদিকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রয়োজন হচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন পত্র, যেটির জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অর্থ। এতে বিপাকে পড়েছে শত শত শিক্ষার্থী। প্রত্যয়নপত্রের জন্য নেওয়া অর্থ অবৈধ বলছে কলেজ সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল।
কুমারখালী সরকারি কলেজে একদশ শ্রেণিতে নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নিকট হতে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তির জন্য ফরম পূরণ চলছে।
ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সুবিধা বঞ্চিত ও অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের এই উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রয়োজন হচ্ছে কলেজের প্রত্যয়নপত্র, যেটির জন্য শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিনয় কুমার সরকার বলেন, বিষয়টি এভাবে নিয়েন না। ভুল যদি হয়েই থাকে আগামীতে আর হবে না। যাদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে তাদের টাকা ফেরত দেওয়াসহ আর যাতে কোন শিক্ষার্থীর নিকট থেকে অর্থ না নেওয়া হয়- এ বিষয়ে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যয়নপত্রের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পেমেন্ট প্রক্রিয়া মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংকের মাধ্যমে করা যাবে। তবে আমরা ব্যাংকে কথা বলেছি, কারণ প্রত্যয়নপত্র ওদের সব সময় কাজে লাগবে।
কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং সত্যতা পেয়েছি, ইতিমধ্যেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে এভাবে অর্থ লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, কুমারখালী সরকারি কলেজ হবে শিক্ষার্থী বান্ধব।
শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই নয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যাতে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করতে পারি এমন দাবি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের।
