সিলেটের মাটির ভাষা যেন আত্মস্থ হয়ে গেছে তাইজুল ইসলামের। যখনই খেলা হয় তখনই তার ঘূর্ণিতে কাবু হয় প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা। যতবার এখানে লাল বল হাতে নিয়েছেন ততবারই ১০ উইকেট আদায় করেছেন। যদিও এই মাঠে টেস্ট হয়েছে মাত্র দুটি। দুটিতেই খেলেছেন তাইজুল ইসলাম। নেমেই দেখিয়েছেন তার স্পিন ভেলকি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের টেস্ট অভিষেক হয় ২০১৮ সালে। সেই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ১৫১ রানে বাংলাদেশ হারলেও তাইজুল দুই ইনিংস মিলিয়ে পেয়েছিলেন ১১টি। প্রথম ইনিংসে ৬টির পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫টি। পাঁচ বছর পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গতকাল বাংলাদেশ পেয়েছে ১৫০ রানের জয়। এবারও সেই জয়ে তাইজুলের অবদান দুই ইনিংসে ১০ উইকেট। সিলেটের উইকেটের চরিত্র না বুঝলে এমনটা কী করতে পারতেন তাইজুল!
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী ও পরে ড্রেসিংরুমের সামনে মুখোমুখি হয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমের। স্বল্পভাষী তাইজুল সেখানেই জানিয়েছেন ১০ উইকেট নিয়ে তার ম্যাচ সেরা হওয়ার প্রতিক্রিয়া। যদিও সীমিত সে প্রতিক্রিয়ায় নিজের চেয়ে দলের কথাই বেশি বললেন অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি স্পিনার, ‘যখন আপনি অনেক বড় কিছু পাবেন, তখন উদযাপন সব সময়ই হয়। আমরা যে আজ উদযাপন করিনি, তা নয়। অবশ্যই আমরা উদযাপন করেছি, মাঠের মধ্যে বা ড্রেসিংরুমে সব জায়গাতেই। কিন্তু একটা জিনিস কি, আমরা ওটার জন্যই অপেক্ষা করছি, যেন আরও ভালো কিছু পাই।’
সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের দুই রকম ছায়া আছে তাইজুলের ওপর। তাইজুলের ভূমিকাটা যেন সাকিবের ‘ডামি’ হিসেবে! বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার থাকলে অনেক সময় দলে সুযোগ হয় না তার। আবার জাতীয় দলে সম্ভবত তামিমের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ তিনিই। কাল ম্যাচ শেষে তাইজুল জানালেন, সিলেট টেস্টের মধ্যে সাকিব, তামিম দুজনই ফোন করেছিলেন তাকে, শুভকামনা জানিয়েছেন।
জানালেন, ‘সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে কাল ফোনে কথা হয়েছিল। সাকিব ভাই-ই ফোন দিয়েছিলেন। তামিম ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তামিম ভাইয়ের সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হয়। ওনাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার বড় ভাইয়ের মতোই মনে করি।’
টেস্টে বোলার তাইজুলের সামর্থ্য নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন থাকা উচিত নয় তার ওয়ানডের সামর্থ্য নিয়েও। তবু দলীয় সমন্বয়ের যোগ-বিয়োগে এই সংস্করণে তার খেলার সুযোগ অনেক কমই হয়। ৯ বছরে মাত্র ১৮টি ওয়ানডে খেলেছেন, তবে উইকেটশূন্য থেকেছেন মাত্র তিন ম্যাচে। তবু নিউজিল্যান্ড সফরের দলে নিজের নাম না দেখে কাল দিন শেষে একটু হতাশাই প্রকাশ করেছিলেন তাইজুল, ‘আফসোস সবারই থাকে। আমারও আফসোস আছে। কাল (পরশু) তো দল দিয়েছে, হয়তো দেখেছেন। আমি এটা নিয়ে কথা বলতে চাই না।’ দলে জায়গা না পাওয়া হতাশাটা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন তাইজুল, ‘কোনো খেলোয়াড়ই সারা জীবন খেলবে না। আমার একটাই আশা, আমি থাকব না, আমার জায়গায় যে আসবে, সে পারফর্ম করবে। যেই-ই আসুক, যেন বাংলাদেশকে ভালো কিছু দিতে পারে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজ শেষ হওয়া সিলেট টেস্টে দুই ইনিংসে নিয়েছেন ১০ উইকেট। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলমান সিলেট টেস্ট পর্যন্ত ১৪টি টেস্ট খেলে ৭২ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল, একবার ৭ উইকেটসহ ৫ বা তার বেশি উইকেট পেয়েছেন ৫ বার। ক্যারিয়ারের ৯ বছর পার করে যত অভিজ্ঞ হচ্ছেন, বল হাতে ততই নির্ভরতার প্রতীক হয়ে দেখা দিচ্ছেন তিনি।
