এবার বদলে যেতে পারে সিলেট-১ আসনের ইতিহাস

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৫৯ পিএম

দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সিলেট-১ আসন মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। রাজনীতিতে বলা হয়ে থাকে নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে যারা জিতবে তারাই সরকার গঠন করবে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে এই আসনে যারা জিতেছে তারাই দেশ শাসন করেছে। একই ধারা অব্যাহত ছিল ২০১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচনেও।

তবে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি না থাকায় এবার বদলে যেতে পারে সিলেট ১ আসনের ইতিহাস। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। আবার একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এই দুই প্রার্থীই সিলেটের রাজনীতিতে বড় মুখ হিসেবেও পরিচিত।

নির্বাচনী যাচাই-বাছাই শেষে এই দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ফলে সিলেটের পাড়া মহল্লা ও রাজনীতির মাঠে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে শক্ত লড়াই হতে চলেছে। এই লড়াইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে আব্দুল মোমেন অনেকটা এগিয়ে থাকলেও তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন মিসবাহ উদ্দিন।

নির্বাচনী লড়াইয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থেকে যদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে হারিয়ে দিতে পারেন তাহলে দেশের রাজনীতির ইতিহাসে লেখা হবে নতুন গল্প। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবেন তা জানা যাবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর।

এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এ কে আব্দুল মোমেন। এর আগে এই আসন থেকে নির্বাচন করতেন তার বড় ভাই এবং দেশের সফল অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আব্দুল মুহিত। গত নির্বাচনের আগে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে আব্দুল মোমেনকে এই আসনে মনোনয়ন দিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানান আবুল মাল। এরপর নানা হিসেব নিকাশ শেষে তিনি দলীয় মনোনয়ন পান।

সংসদ সদস্য হওয়ার পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে কিছুটা কম যোগাযোগ ছিল তার। কিন্ত এলাকার উন্নয়নে মানুষের পাশে ছিলেন তিনি। পারিবারিক ঐতিহ্য ও ক্লিন ইমেজের কারণে আসন্ন নির্বাচনেও তিনি এগিয়ে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার কারণে নেতাকর্মীরা তার পক্ষে মাঠে থাকবেন। আবার তিনি এমপি হওয়া মানে সরকারের মন্ত্রী সভায় জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকায় ভোটাররা তাকে বেছে নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ড. আব্দুল মোমেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার, দ্য সালেম স্টেট কলেজ, মেরিম্যাক কলেজ, ক্যামব্রিজ কলেজ, কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি মেম্বার ছিলেন।২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় বিদেশের মিশনে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

অপরদিকে সিলেটের রাজনীতিতে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বড় নাম। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে টানা ৩ বার তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পরিচয় রয়েছে। এই আসনে তার একটি ভালো ভোট ব্যাংক ও রয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় রাজনীতির মারপ্যাঁচে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকবেন তিনি।

তবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দলীয় কর্মীদের দুর্দিনে পাশে না থাকার অভিযোগ ছিল। পাশাপাশি তিনি নিজের একটা বলয় তৈরি করতে গিয়ে সাধারণ নেতাকর্মী ও তার বিরোধী বলয়ের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেছিলেন।

জানা যায়, এই আসনে ২০০৯ সাল থেকে মনোনয়ন চাইছেন সিরাজ। এ নিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে বেশ দূরত্ব চলছিল সিরাজের। একই কারণে বর্তমানেও আব্দুল মোমেনের সঙ্গেও তার দূরত্ব চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত