যশোর যুবদলের এক নেতাকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ ঘটনা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না রুলে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আমিনুর রহমান নামে এই ব্যক্তিকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) ও যশোর কারা কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ প্রতিপালন করতে বলা হয়েছে।
আমিনুরকে হাসপাতালে ডান্ডাবেড়ি পরানোর বৈধতার চ্যালেঞ্জে করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, আইন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কারা মহাপরিদর্শক, যশোরের পুলিশ সুপার, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারকে রুলের জবাব দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।
গত সপ্তাহে গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ও সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ কলেজের প্রভাষক আমিনুর রহমান। গত ২ নভেম্বর নাশকতার অভিযোগে তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হৃদরোগে আক্রান্ত আমিনুরকে যশোর থেকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তাকে হাসপাতালে ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি খাওয়ার সময়ও তার হাতকড়া খোলা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় আমিনুরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন গত বুধবার হাইকোর্টের আদালতের নজরে এনে স্বতঃপ্রণোদিত নির্দেশনা চান সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। আদালত আইনজীবীকে রিট করার পরামর্শ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার আমিনুরের স্ত্রী নাহিদ সুলতানা এ রিট আবেদনটি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
