শ্রম আইনের সংশোধনী বিল ফেরত রাষ্ট্রপতির

‘বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আসার মতো পরিস্থিতি নেই’

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৪৮ এএম

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল-২০২৩’-এ স্বাক্ষর না করে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ কারণে বিলটি এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না। চলতি একাদশ সংসদের শেষ অধিবেশনে গত ২ নভেম্বর বিলটি পাস হয়। এরপর সম্মতির জন্য ৮ নভেম্বর তা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হয়।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বিলটি ২০ নভেম্বর সংসদে ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ২২ নভেম্বর সংসদ সচিবালয় রাষ্ট্রপতির ওই বার্তাসহ একটি বুলেটিন প্রকাশ করে। ওই বার্তায় বলা হয়, ‘এই বিলের দফা-৪৫ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়। কাজেই উক্ত দফা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৮০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠানো হলো।’

সংসদে কোনো বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে সেটি আইনে পরিণত হয়। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কাছে কোনো বিল পেশ করার ১৫ দিনের মধ্যে তিনি তাতে সম্মতি দেবেন অথবা অর্থবিল ছাড়া অন্য কোনো বিলের ক্ষেত্রে বিলটি বা তার কোনো বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করে একটি বার্তাসহ সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন।

সাধারণত রাষ্ট্রপতিকে কোনো বিল সংসদ ফেরত পাঠাতে দেখা যায় না। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সপ্তম সংসদে পাস হওয়া একটি বিল সই না করে ফেরত পাঠিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংশোধিত শ্রম আইনের বেআইনি ধর্মঘট বা লকআউটের দণ্ডসংক্রান্ত দফাটি পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। এটি মূল আইনের ২৯৪ ধারা। এ ধারার ১ উপধারায় শ্রমিকদের বেআইনি ধর্মঘটের দণ্ডের কথা বলা আছে। আর ২ উপধারায় মালিকপক্ষের বেআইনি লকআউটের দণ্ডের বিধান আছে। উভয় ক্ষেত্রে দণ্ড একই। পাস হওয়া বিলে শুধু শ্রমিকদের বেআইনি ধর্মঘটের জরিমানা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। মালিকদের দণ্ড আগের মতোই রয়ে গেছে। কারণ উপধারা-২ সংশোধন করা হয়নি। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে। এ কারণে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদে ২০০৬ সালে শ্রম আইন পাস হয়। এরপর একাধিকবার আইনটি সংশোধন হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন গঠনপ্রক্রিয়া সহজ করা, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) শ্রম আইন কার্যকর করাসহ শ্রম অধিকারের কয়েকটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। এ কারণেই আওয়ামী লীগ সরকার চলতি মেয়াদের শেষদিকে আবারও আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একাদশ সংসদের শেষ অধিবেশন হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিলটি তামাদি হয়ে যাবে। আগামী দ্বাদশ সংসদে নতুন করে বিলটি আবারও উত্থাপন করতে হবে।

‘বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আসার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই’ : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আপনারা মনে করছেন কি না যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে এবং এটা নিয়ে আপনারা বা ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন কি না জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি কিন্তু নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

মেমোরেন্ডামে চাচ্ছে শ্রম পরিস্থিতির আরও উন্নতি হোক সব দেশে, এটা কিন্তু শুধু বাংলাদেশকে টার্গেট করে না। সেটা আমরা আমলে নিয়েছি।’

বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমাদের যারা বাণিজ্য অংশীদার, বড় অংশীদার; ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২৫ বিলিয়ন ডলারের আমরা রপ্তানি করি, সেটা শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ বিলিয়ন রপ্তানি করি, সেখানে আমরা কোনো শুল্কমুক্ত সুবিধা পাই না। পৃথিবীর মধ্যে বলা যায়, অনেক বেশি শুল্ক দিয়ে বাংলাদেশকে রপ্তানি করতে হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত