অভিবাসী কমাবে যুক্তরাজ্য, কঠোর করল ভিসানীতি

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:৩৬ পিএম

রেকর্ড পরিমাণ অভিবাসীতে ভরে গেছে যুক্তরাজ্য। আর তাই এবার বৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটি।

ভিসানীতি কঠোর করার মাধ্যমে অভিবাসী কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার মূল কারণ হল এটি।

গত মাসের দেশটির এক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশটিতে ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ অভিবাসন গ্রহণ করেছে, যেটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া বর্তমানে বেশীরভাগ অভিবাসী ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবর্তে ভারত, নাইজেরিয়া এবং চীনের মতো দেশগুলো থেকে আসছে।

এ নিয়ে মঙ্গলবার ৫ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি।

এই ৫ দফা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যেসব প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে আসতে চান, তাদের ন্যূনতম বেতন ছিল ২৬ হাজার ২০০ পাউন্ড, এখন সেটি বাড়িয়ে ৩৮ হাজার ৭০০ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এই এক নিয়মের কারণে অনেক অভিবাসী আসা বন্ধ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আর এই বেতন বৃদ্ধির ফলে গত বছর যে তিন লাখ নতুন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে আসার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিলেন, তারা আর আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন মিস্টার ক্লেভারলি।

এছাড়া যেসব কোম্পানি তাদের বর্তমান বেতন কাঠামোর চেয়ে ২০ শতাংশ কম বেতন দিচ্ছে, তারা যেন অভিবাসী শ্রমিকদের আনতে না পারে, সে ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।

এছাড়া নতুন এই পরিকল্পনায় পারিবারিক ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আয়ের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে পারিবারিক ভিসায় যুক্তরাজ্যে যেতে হলে আবেদনকারীর ন্যূনতম আয় থাকতে হবে ৩৮ হাজার ৭০০ পাউন্ড।

পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে যারা যুক্তরাজ্যে পড়তে আসেন, সেই সব শিক্ষার্থীরা যেন ইচ্ছা করলেই তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে আনতে না পারেন, সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

নতুন নীতির কারণে যুক্তরাজ্যে পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখন চাইলেই আর তাদের পরিবারের সদস্যদের আনতে পারবেন না। আর এতেই অভিবাসীদের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসবে বলে বিশ্বাস করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এসব পরিবর্তন আগামী বসন্ত থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেয়া এক বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের লাগাম টানা প্রয়োজন। বছরের পর বছর ধরে দেশটিতে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা ভিসার অপব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, "অভিবাসন নীতি অবশ্যই স্বচ্ছ, ন্যায্য ও টেকসই হতে হবে।"

গত মাসে ২০২২ সালের অভিবাসনের তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে অভিবাসন কমিয়ে আনার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও তার সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্যরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত