জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে মতভেদ

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:২৯ এএম

জীবাশ্ম জ্বালানি বাতিল হবে নাকি ব্যবহার হ্রাস পাবে এই বিতর্কই এখন কপ সম্মেলনের কেন্দ্রে। ক্রমবর্ধমান বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত জলবায়ুর সুরক্ষায় জীবাশ্ম বাতিল করতে কপ-২৮ মঞ্চকে ব্যবহার করতে না পারলে তা হবে পৃথিবীর জন্য চূড়ান্ত অর্থেই এক বিপর্যয়, এমনই শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। গতকাল শুক্রবার কপ-২৮ সভাপতি সুলতান আল-জাবের বলেন, ‘আলোচনা ঐতিহাসিক ঘোষণার দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে।’ তবে জীবাশ্ম জ্বালানি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার পথে রয়েছে, এমন কথা জোর দিয়ে বলছে না গণমাধ্যমগুলো।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউইএই) দুবাইয়ে চলতে থাকা জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৮ মঞ্চে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত বিতর্ককে ইতিবাচক ধারায় নিয়ে আসতে মরিয়া অনেক দেশের সরকার। বিশেষত উন্নয়নশীল বিশ্ব বরাবরই অভিযোগ করে, উন্নত বিশ^ দূষণে অবদান রাখে বেশি এবং তারা দরিদ্রদের জন্য তহবিলও জোগান দেয় না। এ অবস্থায় আরও একবার সরব হয়ে এশিয়া, আফ্রিকাসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিরা দাবি তুলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বের হওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই।

কপ-২৮ মঞ্চে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের প্রতিনিধিদলের প্রধান কাইসা কসোনেন বলেন, ‘সমাধান প্রস্তুতই রয়েছে, তা হচ্ছে, সহজ ও দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ধাবিত হওয়া। কিন্তু এটি কখনোই হওয়া অসম্ভব হবে যদি-না জীবাশ্ম জ্বালানিকে বাতিল করা না হয়। আপনি খেয়াল করে দেখুন, গত বছর কারা সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে? করেছে জীবাশ্ম জ¦লানি প্রতিষ্ঠানগুলো।

কিন্তু তেল ও গ্যাস কোম্পানির রেকর্ডসংখ্যক প্রতিনিধি, তেল কোম্পানির সভাপতিত্বে কপ সম্মেলন এবং কার্বন দূষণ কমানোর পরিবর্তে ক্যাপচারিংয়ের পক্ষে আওয়াজ তোলা প্রচারকদের রেকর্ড উপস্থিতি-দুবাইয়ে এতসব বাস্তবতার ভিড়ে জীবাশ্ম বাতিল হবে কি না তা বুঝতে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ডেনমার্কের জলবায়ু মন্ত্রী ডান জানগেনসেন বলেন, ‘আমরা প্রকৃতির সঙ্গে দফারফা করতে পারি না। জলবায়ু ছাড় দেওয়ার বিষয় নয়। কোনো সুবচন বিন্দুমাত্র পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে না, যতক্ষণ না আমরা কোনো কাজের কাজ করি।’ তিনি বলেন, দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে উষ্ণায়ন সীমিত রাখার লক্ষ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এটিই আমাদের শেষ সুযোগ।

বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে সতর্ক করেছেন, পৃথিবী দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে নেই; বরং সাম্প্রতিক প্রবণতা অব্যাহত থাকতে উষ্ণায়ন ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হতে পারে। এরই মধ্যে চলতি বছর সবচেয়ে উষ্ণতম তকমা পেয়েছে।

২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তির আওতায় বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংক্রান্ত সমঝোতা পর্যালোচনা করতে গঠিত ‘গ্লোবাল স্টকটেক’ মঞ্চ সরকারগুলোকে তাদের কর্মপদ্ধতি বদলের আহ্বান জানাচ্ছে। গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসের জন্য সব পদক্ষেপকেই আমলে নেওযার কথা বলা হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে আগের চেয়ে প্রবল চাপসহ আলোচনার টেবিলে এসেছে জীবাশ্ম জ্বালানি। তবে অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে, সৌদি আরবের মতো দেশগুলো সম্পূর্ণভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বের হয়ে আসার প্রস্তাবকে বাধগ্রস্ত করছে। তারা পর্যায়ক্রমে কমানোর পক্ষে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জীবাশ্ম বিতর্ক নিয়ে সুলতান আল-জাবের বলেন, ‘আমি দেশগুলোর পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমি কপের সর্বোচ্চ উচ্চাশার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে কোনো কিছুই করা বাকি রাখতে চাই না।’ তবে তিনি জীবাশ্মকে পুরোপুরি বাতিল না করে ধীরে ধীরে প্রশমনেরই পক্ষে, এমনটাই ইঙ্গিত গণমাধ্যমে। তবে তিনি বলেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশগুলো অভূতপূর্ব কিছু করে ফেলতে পারে।

জীবাশ্ম বাতিলের আলোচনায় সামনে সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জলবায়ু মন্ত্রী বারবারা ক্রেসি। তিনি বলেন, ‘ব্যাপক দূষণকারী অধিক সম্পদশালী দেশগুলোকে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস করতে এবং দরিদ্র দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রশ্নে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত