ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড গাজাতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বহুল আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি আটকে গেল।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব তোলা হয়।
এদিকে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেওয়ায় কড়া নিন্দা জানিয়েছে হামাস। শুক্রবার রাতেই এক বিবৃতিতে হামাসের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক ও অমানবিক’ বলে মনে করেন তারা। খবর আল জাজিরা।
হামাসের রাজনৈতিক শাখার সদস্য ইজজাত এল-রেশিক বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মানুষদের হত্যা, আরও গণহত্যা চালানো ও আমাদের নির্মূল করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি অংশ নিল।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। খবর বিবিসি।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "আমাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ।“
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে গিলাদ এরদান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব এবং মূল্যবোধ দেখিয়েছে এবং অনেক অন্ধকার দূর করেছে।"
এছাড়া জাতিসংঘের সমালোচনা করে এরদান বলেন, এটি মর্মাহত যে যখন হামাস ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করছে তখন জাতিসংঘ একটি বিকৃত প্রস্তাব নিয়ে ব্যস্ত যা হামাসের সন্ত্রাসীদের গাজায় ক্ষমতায় থাকতে সক্ষম করবে। এছাড়া জাতিসংঘ হামাসকে জিম্মিদের মুক্তির জন্য আহ্বান বা হত্যার জন্য নিন্দা জানায় নি।
এরদান আরও বলেন, "যুদ্ধবিরতি কেবলমাত্র সমস্ত জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা এবং হামাসের ধ্বংসের মাধ্যমে সম্ভব হবে।"
আর ৭ অক্টোবর হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজা উপত্যকাটিতে মারা গেছেন ১৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও ৬০ হাজার। নিহত ব্যক্তিদের ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু।
