গাছের চারা রোপণ করে মাদক মামলায় খালাস

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৪৫ পিএম

মাদক মামলার অভিযোগে ২০টি গাছের চারা রোপণ করে এক মাসের সাজা থেকে খালাস পেয়েছেন সেন্টু নামের এক ব্যাক্তি। আজ রবিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আসামি সেন্টুর আপিল নিষ্পত্তি করে খালাসের আদেশ এ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দ্য প্রবেশন অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০ এর আওতায় লঘু অপরাধের আসামিদের সাজা হলে তাদের কারাগারে না পাঠিয়ে শর্ত সাপেক্ষে কারাগারের বাইরে রেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। এ মামলাটিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় পুলিশের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ আনা হয়। আদালত গাছের চারা রোপণের শর্ত পূরণ করায় আসামিকে খালাস দিয়েছেন। 

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১১ মার্চ রাতে রাজধানীর আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং সোসাইটি এলাকায় পুলিশ চেকপোস্টে একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশিকালে পাঁচজনকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা খারাপ আচরণ করে। আদাবর থানা পুলিশ গাড়িচালক নুর আলম ওরফে খাইরুল, সেন্টু, বাবর আলী, মোস্তফা ও লাল মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২২ (ঘ) ধারায় মামলা করে। পরদিন তারা জামিন পান।

তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৪ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৩ জন সাক্ষীর মধ্যে তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত আসামিদের এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে, রায়ের সময় আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এরপর আসামি সেন্টু আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে। তবে, শর্ত হিসেবে তাকে ২০টি গাছের চারা রোপণ করতে নির্দেশ দেয় আদালত। এর ধারাবাহিকতায় আদালতের আদেশ প্রতিপালন করে গত ২১ নভেম্বর তার আইনজীবী আদালতে লিখিতভাবে বিষয়টি দাখিল করে। একই সঙ্গে প্রমাণ স্বরুপ কিছু ছবিও দাখিল করা হয়। আদালত আপিল নিষ্পত্তি করে তাকে খালাসের আদেশ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত