চট্টগ্রামে আদালত কক্ষের দরজার সামনে সাবেক চিকিৎসক স্বামীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন। গত ৫ ডিসেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ জুয়েল দেব এর আদালতের সামনে ঘটে এই ঘটনা।
সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গত ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ মারধর, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক জয়নাল আবেদীন ভূঞা। আদালত তার অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলা রুজু করতে নগরের কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি এস এম ওবায়েদুল হক। এতে ডা. জয়নালের সাবেক স্ত্রী ফারহানা আক্তার পিংকি, শ্বশুর মো. আবদুল মতিন (৫৫), শ্যালক মো. জাহিদ হোসেন(১৮)এবং তার শাশুড়ি হোসনে আরা বেগমকে (৪৬) আসামি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। আসামি বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডা. জয়নালের আইনজীবী জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানান, গত ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার জাহানের আদালতে সাবেক স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালকের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছিলেন ডা. মো. জয়নাল আবেদীন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।
সূত্র জানায়, গত ৫ ডিসেম্বর যৌতুকের মামলার ধার্য তারিখ বৃদ্ধ বাবা আবু তৈয়ব ভুঁইয়াকে নিয়ে আদালতে হাজির হন ডা. জয়নাল। এদিন যৌতুকের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আদালত থেকে জামিন পান সাবেক স্ত্রী ফারহানাসহ চার আসামি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে দরজার সামনে বাদীর বাবাকে একা পেয়ে তাকে মারধর করেন আসামিরা। বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে জয়নালকেও মারধর করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যাচেষ্টা চালান আসামিরা। তাদের রক্ষা করতে গেলে বাদীর আইনজীবী শাহিনকেও মারধর করেন আসামিরা। এ সময় আশপাশের আইনজীবীরা তাদের উদ্ধার করেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পাশাপাশি আদালতে অভিযোগ দেন ডা. জয়নাল।
ফৌজদারি অভিযোগে ডা. জয়নাল উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর তার সঙ্গে ফারহানা আক্তারের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। দুজনের এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। তাদের সংসারে দুটি যমজ কন্যা সন্তান আছে। ফার্নিচার দাবি করায় ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি ৩ লাখ টাকা শ্বশুরকে এবং চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ফ্ল্যাট কেনার জন্য স্ত্রীকে ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন ডা. জয়নাল। পরে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন তার স্ত্রী। টাকা না দেওয়ায় জয়নালের ওপর মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন ফারহানা ও তার পরিবার। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
জানা গেছে, ডা. মো. জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া (৩৫) নগরের উত্তর পতেঙ্গার খেজুরতলা পশ্চিম হোসনে আহমদ পাড়ার মো. আবু তৈয়ব ভুঁইয়ার ছেলে। নগরের প্রবর্ত্তক এলাকার বেসরকারি সিএসসিআর হাসপাতালে ইর্মাজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে তিনি কর্মরত। তার সাবেক স্ত্রী ফারাহানা আক্তার পিংকির গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার চৌমুহনী এলাকায়। বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন বিবিরহাট কাঁচাবাজার গলিতে থাকেন তিনি।
