গত শনিবার রাতে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসন এলাকার আবু বক্করের বড় ছেলে আবু সাঈদের (২০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। তাকে উদ্ধার করে ওইদিন রাত ২টায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে লাশ মর্গে প্রেরণ করে। হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রেখে দাফনের জন্য প্রস্তুত করা হয় কবর। মর্গের বাইরে মরদেহের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন স্বজনদের। তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ ২৬ ঘণ্টা পর।
জানা যায়, রবিবার পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করলেও সময় শেষ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে লাশের ময়নাতদন্ত করেনি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিনুর আলম সুমন। নিহতের মামা আব্দুল মালেক বলেন, প্রেমঘটিত অভিমান থেকে আবু সাঈদ আত্মহত্যা করে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে আনা হলেও ময়নাতদন্ত করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ এসে সুরতহাল প্রতিবেদন ও তদন্তের কাজ শেষ করে দুপুরে আরএমওকে ফোন দিলে ৩টার পর ময়নাতদন্ত হবে না বলে জানিয়ে দেন। অথচ আমরা বাড়িতে কবর খোঁড়াসহ লাশ দাফনের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। সোমবার দুপুরে লাশ বুঝে পেলে দাফন করা হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ ব্যাপারে কর্তব্যরত আরএমও ডা. শাহিনুর আলমের কাছে কৈফিয়ত জানতে চাওয়া হবে।
ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক বলেন, লাশের সুরতহাল শেষে রবিবার ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বিকেলেই পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে।
ডা. শাহিনুর আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
