লালমনিরহাট-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের আয় কমেছে। হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৩২ লাখ ৬ হাজার ৪০৬ টাকা। ২০১৮ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় দেখিয়েছেন বার্ষিক আয় ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫৫ টাকা। সে হিসেবে গত ৫ বছরে তার বার্ষিক আয় কমেছে প্রায় ২ লাখ টাকার মতো।
২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর তিনি পেয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লালমনিরহাট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় হলফনামায় যে হিসাব উল্লেখ করেছেন, তাতে নগদ টাকা ও ব্যাংকে জমার পরিমাণ কমেছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ তার হলফনামায় আয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন কৃষি খাতে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০০, ব্যবসা ৬ লাখ, শেয়ার সঞ্চয়/ব্যাংক আমানত ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে সম্মানী ভাতা ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছেন ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৫৪, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ১৪ লাখ ৪ হাজার ৯৯৭, পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতের বিনিয়োগ ২০ লাখ, বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি, লঞ্চ, স্টিমার, বিমান ও মোটরসাইকেল ইত্যাদি হিসেবে দেখিয়েছেন ডিউটি ফ্রি কার ৩৪ লাখ ৬১ হাজার, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকার ৩২ হাজার ও আসবাবপত্রে বিবরণী মূল্যসহ দেখিয়েছেন ২৬ হাজার ৫০০ টাকা। কৃষিজমির পরিমাণ ২৫ বিঘা, যার মূল্য ৩১ হাজার ৫০০ (পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত), অকৃষিজমি ও অর্জনকালে আর্থিক মূল্য ২০ শতক (পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত) মূল্য ৭ লাখ, বাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট সংখ্যা ও অর্জনকারী সময়ে আর্থিক মূল্য ৩০ লাখ (ঢাকার রাজউকে ১টি প্লট) ও কালীগঞ্জ উপজেলার ৩৫ বিঘা জমির ওপর মৎস্য খামার (পৈতৃক সূত্রে) যার মূল্য দেখিয়েছেন ৭০ হাজার টাকা।
হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ২৫ বিঘা জমির কোনো মূল্য উল্লেখ না করলেও এবার দাখিল করা ২৫ বিঘা জমির মূল্য দেখিয়েছেন ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। ঠিক একইভাবে মৎস্য খামারের ৩৫ বিঘা জমির মূল্য এ বছর দেখিয়েছেন ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া গত নির্বাচনে মৎস্য খামার থেকে আয় দেখিয়েছিলেন ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬০ টাকা কিন্তু এ বছর দাখিল করা হলফনামায় এ খাত থেকে কোনো আয়ের কথা উল্লেখ করেননি।
হলফনামায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ নিজের পেশা উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন বিকম পাস। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, কোনো ব্যাংক থেকে তিনি ঋণগ্রহণ করেননি।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় উল্লেখ ছিল, বার্ষিক আয়ের বিবরণ উল্লেখ করেছেন কৃষি খাতে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া ৯২ হাজার ৪০০, ব্যবসা, তামাক সঞ্চয়ী, হিসাব সুদ ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৫, সম্মানী ভাতা ১১ লাখ ৪ হাজার ও মৎস্য চাষের আয় ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬০ টাকা।
নিজের অস্থাবর সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছেন নগদ ১ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার ২১০, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৩, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকারের পরিমাণ ২৫ তোলা (আগের মতো), ইলেকট্রিক সামগ্রীর বিবরণের (পরিমাণ, অর্জনকালীন সময়ের মূল্যসহ) ৬০ হাজার, আসবাবপত্রের বিবরণ মূল্যসহ ২৬ হাজার ৫০০ ও অন্যান্য ৬ হাজার টাকা। একটি মোটরগাড়ি ডিউটি ফ্রি কার।
স্থাবর সম্পদের বিবরণ কৃষিজমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন সময়ের আর্থিক মূল্য ২৫ বিঘা, অকৃষিজমি, দালান আবাসিক/বাণিজ্যিক মূল্য ৭ লাখ, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্টের আর্থিক মূল্য ৩০ লাখ (ঢাকার রাজউকে ১টি প্লট), মৎস্য খামার ৩৫ বিঘা ও অন্যান্য বিস্তারিত বিবরণ আগের মতো ৬ হাজার টাকা।
