আনসার সদস্যদের পাহারায় চলবে ট্রেন। কয়েক দিন ধরে রেলপথে ও রেলওয়েকেন্দ্রিক নাশকতার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ট্রেন চলাচলের আগে একটি টহল ইঞ্জিন আগে চলবে এবং এর পেছনে চলবে মূল ট্রেনটি। এ ছাড়া ট্রেনের গতি কমিয়ে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটারে নামিয়ে আসা হয়েছে।
ইতিমধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার টহল ইঞ্জিন গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলাচল শুরু করেছে এবং রবিবার থেকে আনসার সদস্যরা পাহারায় বসতে যাচ্ছেন।
কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজার ট্রেনে ইতিমধ্যে টহল ইঞ্জিন দেওয়া হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেসে আমরা টহল ইঞ্জিন দিয়েছি। শুধু কক্সবাজার এক্সপ্রেস নয় সব ট্রেনের আধা ঘণ্টা আগে একটি টহল ইঞ্জিন চলাচল করবে। আর এরপরই মূল ট্রেনটি ছেড়ে যাবে।’
টহল ইঞ্জিন কখন চলাচল করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাতের বেলা প্রতিটি ট্রেনের আগে এই টহল ইঞ্জিন চলাচল করবে। আর দিনের বেলা ট্রলি দিয়ে একটি টিম চলাচল করবে। অর্থাৎ রাতের বেলা টহলের দায়িত্বে থাকবে ইঞ্জিন এবং দিনের বেলা ট্রলি। আর দিন ও রাত পুরো সময়ের জন্য থাকবেন আনসার সদস্যরা।
আনসার সদস্যরা কবে থেকে যুক্ত হচ্ছেন জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। আগামীকাল শুক্র ও শনিবার ছুটি থাকায় রবিবার থেকে তা কার্যকর করা হতে পারে।’
রেললাইন ও রেলওয়েকেন্দ্রিক নাশকতাকারীদের হত্যাকারী অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘এভাবে ট্রেনের যাত্রীদের হত্যা করা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। এই ট্রেনে নাশকতাকারীদের ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজনও থাকতে পারেন।’
রেলওয়েতে সারা দেশে ১০ হাজার আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে রয়েছেন ৮০৪ জন। এ বিষয়ে আনসার ও ভিডিপি চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ রাসেল বলেন, ‘রেলওয়ে থেকে নতুন করে এখনো চাহিদা আমরা হাতে পাইনি। মূলত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমাদের কাছে আনসার সদস্য চাওয়া হয়ে থাকে। আর সেই চাহিদা অনুযায়ী আনসার সদস্য দেওয়া হয়।’
পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৩-১৪ সালে রেলপথে আনসার মোতায়েনের মাধ্যমে নাশকতা প্রতিরোধ সফল হওয়ায় এবারও আনসার বরাদ্দ চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ৪০৭ কিলোমিটার রেলপথ সুরক্ষার জন্য ১ হাজার ৪২২ জন আনসার চাওয়া হয়েছে। নাশকতাকারীরা রেললাইন কেটে দিচ্ছে কিংবা নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় রেললাইনের নাশকতা প্রতিরোধের পাশাপাশি ট্রেনের যাত্রা নির্বিঘœ করতে নেওয়া হয়েছে আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত। রেলওয়ে পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিটি বিভাগ থেকে আনসারের চাহিদা চেয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে পাঠানো হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এর মধ্যে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের ৪০৭ কিলোমিটার রেলপথের নিরাপত্তায় ১ হাজার ৪২২ জন আনসার চাওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে রেললাইন কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে বিএনপির অবরোধের মধ্যে গত মঙ্গলবার ভোররাতে নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় আসার পথে আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ ট্রেনের ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এতে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়।
এর আগে নারায়ণগঞ্জে রেললাইনে নাট-বল্টু দিয়ে আলগা পাত লাগিয়ে রাখা হয়। যদিও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বিরোধী দলগুলোর হরতাল-অবরোধ চলাকালে ঈশ্বরদীসহ একাধিক স্থানে ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
