জাতীয় শিক্ষা-ব্যবস্থাপনা একাডেমির প্রাক্তন পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনয়শিল্পী অধ্যাপক জিয়াউল হাসান কিসলু বলেন, বাংলাদেশ হবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। যেভাবে উদ্ভুদ্ধ করেছিলো বঙ্গবন্ধু আমাদের। যার জন্য আমরা মা বলি, মায়ের কাছে ভাষা শিখেছি।
আজ শনিবার (১৬ ডিসেম্বর ) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারি তিতুমীর কলেজে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ফেরদৌস আরা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মহিউদ্দিন ও শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক প্রফেসর কাজী ফয়জুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতেই পছন্দ করতেন। রবীন্দ্রনাথ বলতেন একত্রিত হওয়া আর মিলতে পারা এক না। মুক্তিযুদ্ধ আমরা মিলতে পেরেছি দেশের জন্য যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করতে পেরেছি। জনগণের সহায়তা পেয়েছিলাম বলেই তাড়াতাড়ি বিজয়ের ধার প্রান্তে পৌঁছে যাই। দেশকে আমরা মা বলি, মায়ের কাছে ভাষা শিখেছি। মা যখন আক্রান্ত হয়েছে রক্ষায় আমাকে যেতেই হবে মুক্ত করতে।
তিনি বলেন, ৫২ বছর ধরে বিজয় দিবস তোমরা কি জন্য পালন করো। আমার সাথে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান যুদ্ধ করেছে। সে সময় তাদের মাথায় ছিল না ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দেশ হবে। নিশ্চয় এটা হবে জানলে যুদ্ধ করতো না। এদেশ হবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। যেভাবে উদ্ভুদ্ধ করেছিলো বঙ্গবন্ধু আমাদের কে। উনি বলতেন মানুষ সবার উপরে আর কোনো পরিচয় নেই মানুষের, একটাই পরিচয় মানুষ। মানুষের পরিচয় নিয়েই যুদ্ধ করেছি এদেশের মানুষের সঙ্গে মিশেছি।ধর্মীয় পরিচয় তো ৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে পেয়েছিলাম কিন্তু তাতে জাতিগত ঐক্য ছিলো না। ধর্ম একটি ব্যক্তিগত চর্চার বিষয়। ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা দেশ করবে না। বঙ্গবন্ধু যে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলেছেন তা হলো সকল ধর্ম কে পৃষ্ঠপোষকতা করবো,সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এদেশে বসবাস করবে। সেই ধর্মনিরপেক্ষ দেশে বাস করি এদেশকে কোনো বিশেষ ধর্মের দেশ করতে দিব না। দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসাবে কেন অন্য ধর্মের লোকেরা থাকবে, সবাই আমরা প্রথম শ্রেণির নাগরিক সবাই যুদ্ধ করেছি মন্দির আমার মসজিদ আমার গির্জা আমার, সব আমার সব আমাদের।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে তা অতীতে কখনও দেখিনি, কোনো সরকার করেনি। বঙ্গবন্ধু অসমাপ্ত কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তার হাতকে শক্ত করতে হবে না? আমরা কি তাকে যেতে দিবো? যেতে দিতে পারি? এদেশে যদি এ সরকার আবার না ফিরে গান গাইতে পারবা না, কবিতা লিখতে পারবা না, নাটক লিখতে পারবা না। এদেশ সংস্কৃতি বান্ধব কোনো সরকার ছিলো না একমাত্র শেখ হাসিনা সরকার সংস্কৃতি বান্ধব সরকার। সেজন্য আমি নেমেছি একজন মুক্তিযুদ্ধা হিসাবে এ সরকারকে ফিরিয়ে আনার জন্যে। যেভাবে হোক আবার আনতে হবে মৃত্যুর ভয় করি না জেলায় জেলায় গিয়ে বলবো আবার আসুক এ সরকার। ভোট তোমার মৌলিক অধিকার ভোট নষ্ট হতে দিও না, ভোট দাও।নতুন প্রজন্মের ভোট নৌকায় হোক।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সাবেক শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক প্রফেসর মালেকা আক্তার বানু ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রিপন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোড়লসহ কলেজ শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।
