বাংলাদেশে আরব বসন্তের সুযোগ নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৩৫ এএম

বাংলাদেশে আরব বসন্তের মতো বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার মন্তব্য নাকচ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘এ ধরনের কিছু হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশে নেই। রাশিয়া কী বলেছে, এটা আমাদের ইস্যু নয়। এটা ওদের জিজ্ঞেস করুন। অনেকে অনেক ধরনের কথা বলবে, আমরা এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমরা সার্বভৌম, আমাদের ভারসাম্য পররাষ্ট্রনীতি আছে।’

গতকাল রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘৫২ বছরে বাংলাদেশের অর্জন’ শীর্ষক সেমিনার শেষে বাংলাদেশ ইস্যুতে মস্কোর মুখপাত্রের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. মোমেন বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এটার প্রেক্ষিতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। কে কী বলল না বলল, এটা তাদের মাথাব্যথা নয়। আমরা পরাশক্তিগুলোর টানাটানিতে পা দিতে চাই না। আমাদের ভারসাম্য কূটনীতি নিয়ে আমরা বলতে চাই। আরব বসন্তের সম্ভাবনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার তো মনে হয় না। এ ধরনের কোনো সুযোগ আছে। আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ। শেখ হাসিনার কারণে আমাদের দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত আছে। আর আমরা ৭ জানুয়ারি নির্বাচন করব। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেটা করব। আমরা খুব ভালোভাবে চলছি।’

ঢাকায় সহিংসতায় পিটার হাসের সম্পৃক্ততা নিয়ে রাশিয়ার এর আগের বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগেও এ বাড়তি হামলা, মামলা, অগ্নিসন্ত্রাস ম্যানেজ করেছি। কিছু দুষ্টু লোক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বানচাল করার জন্য, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না তারা এসব অপকর্ম করছে। আমাদের দেশের জনগণ এটি প্রতিহত করবে। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে যাচ্ছি। আমাদের ভারসাম্য কূটনীতি নিয়ে আমরা চলতে চাই।’

‘সুপার পাওয়াররা এখানে এক্সট্রিমিস্টদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, এ সুপার পাওয়ার কারা’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো সুপার পাওয়ার আমাদের প্রভাবিত করার কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। এগুলোর খবর আপনাদের কাছে আছে।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর বাংলাদেশে আরব বসন্তের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কয়েকটি চাপ প্রয়োগ করতে পারে ওয়াশিংটন। বাইডেন প্রশাসনের টার্গেট হতে পারে বাংলাদেশের প্রধান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার দায়ে অনেক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগ আনতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত