গাজা যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের ভাষা বদল

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:৫৩ এএম

গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নতুন করে প্রস্তাব তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক দফা বিলম্বের পর গতকাল মঙ্গলবার ওই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা। প্রস্তাবে এমন ভাষা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র আগেরবারের মতো ‘ভেটো (আমি ইহা মানি না)’ দিতে না পারে। বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনাও চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল গত সোমবার, যা পরে পিছিয়ে যায়। প্রস্তাবে ‘গাজায় নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালাতে শিগগিরই স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ করার’ আহ্বান জানানো হয়। ওয়াশিংটনের সমর্থনের আশায় ওই প্রস্তাবে আরও বদল আনা হতে পারে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমন সময় প্রস্তাবটি উঠছে, যখন গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুসংখ্যা ২০ হাজারের কাছাকাছি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি মঙ্গলবার (গতকাল) পর্যন্ত পেছানোর অর্থ হলো, প্রস্তাবে বিদ্যমান ভাষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভবত এক বা একাধিক দেশের ভেটো এড়াতেই এমন করা হচ্ছে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ৮ ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করে। ওই প্রস্তাব ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভেস্তে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ১৫ সদস্যের ১৩টিই ভোট দেয় এবং ভোটদানে বিরত থাকে যুক্তরাজ্য।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চায় না, প্রস্তাবে বিশেষভাবে ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটি থাকুক। হামাস যাতে প্রস্তাবের দ্বারা সুবিধাজনক অবস্থানে যাওয়ার সুযোগ না পায়, সে জন্যই দুই মিত্র দেশের এমন কড়া অবস্থান।

আন্তর্জাতিক পরিম-লে যখন যুদ্ধ বন্ধ করতে তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে, তখন গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছে। এলাকাটির তিনটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে গত সোমবার চালানো এই হামলায় প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ছিল ৯, যা পরে বেড়ে দাঁড়ায় ২৯। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের শিয়া মতাবলম্বী হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যৌথ টহল জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল সফরের পর গতকাল মঙ্গলবার বাহরাইন সফরে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এ ঘোষণা দেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর দপ্তর অবস্থিত বাহরাইনে। সেখানে দাঁড়িয়ে ‘অপারেশন প্রস্প্যারিটি গার্ডিয়ান’ শিরোনামের এই জোটে ঘোষণা দেওয়া হয়। লোহিত সাগরের দক্ষিণ এবং এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলে টহল চালাতে গঠিত বহুজাতিক এই জোটের সদস্য হলো  যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সেশেলস, স্পেন ও বাহরাইন। লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল এবং এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলে যৌথ টহল অভিযান পরিচালনা করবে।

এ নিয়ে ৪০টির বেশি দেশের মন্ত্রীদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বহুজাতিক জোটের ঘোষণা দিয়ে অস্টিন বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জটি সমন্বিত পদক্ষেপের দাবি রাখে। সে কারণেই আমি এই জোটের ঘোষণা দিচ্ছি।’ এ সময় তিনি অন্য দেশগুলোকেও এতে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত