নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৯৮ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা। সেই রান সহজেই টপকে গিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তার ফিফটিতেই ব্ল্যাকক্যাপসদের মাটিতে এটাই প্রথম জয় টাইগারদের।
ঐতিহাসিক এই জয়ের দিনে স্মৃতির পটে ভেসে আসছে বাংলাদেশের স্মরণীয় সব জয়ের মুহুর্ত।
১৯৯৯ বিশ্বকাপ পাকিস্তান
বাংলাদেশ দলের সেরা জয়ের মুহূর্ত ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি। যেটার ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে সামসের দিকে এগিয়েছে। ইংল্যান্ডের নর্দাম্পটনের সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২২২ রান করে টাইগাররা। জবাবে ব্যাট করেতে নেমে ৪৪.৩ ওভারে ১৬১ অলআউট হয় ঐ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা। ৬২ রানের সহজ জয় পায় আমিনুল ইসলামের বাংলাদেশ।
২০০৪, দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারত বধ
এরপরের বড় জয়টি আসে বাংলাদেশের শততম ওয়ানডেতে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে। প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২২৯ রান। জবাবে ২১৪ রানেই আটকে যায় ভারতের ইনিংস। ১৫ রানের জয় দিয়ে শততম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখে বাংলাদেশ।
২০০৫, কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়া
তবে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়টি আসে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া করে ২৪৯ রান। জবাবে আশরাফুলের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ৪ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।
২০০৬, বগুড়ায় লঙ্কা বধ
২০০৬ সালে বগুড়া তে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে প্রথমবারের মত জয় পায় টাইগাররা।
২০০৭ বিশ্বকাপ বনাম ভারত
বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা জয়ের মুহূর্ত ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়। ওয়েস্ট ইন্ডজের পোর্ট অব স্পেনে এই জয়ে দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকে জানান দিয়েছিল নতুন পরাশক্তির আগমনী বার্তা। আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৯০ রানে গুটিয়ে যায় গাঙ্গুলী, শেবাগ, টেন্ডুলকার, দ্রাবিড়দের ভারত। জবাবে তামিম, মুশফিক ও সাকিবের অর্ধশতকে ৫ উইকেটর সহজ জয় পায় হাবিবুল বাশারের দল।
২০০৮ কিউই বধ
২০০৮ সালের অক্টোবরে ঢাকায় নিউজিল্যান্ড কে প্রথমবারের মত ওয়ানডেতে পরাজিত করে বাংলাদেশ।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠে টাইগার বাহিনী। একই বছর জুলাই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে তাদের মাটিতে ৩-০ বাবধানে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা। যদিও বোর্ডের সঙ্গে দন্দের কারণে শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়রা সেই সিরিজে খেলেননি।
২০১০, ইংলিশ বধ
২০১০ সালে ইংল্যান্ড কে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে প্রথমবারের মত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পায় টাইগার বাহিনী।
একই বছর অক্টোবর মাসে নিউজিল্যান্ড কে ৪-০ তে হোয়াইটওয়াশ করে ক্রিকেট বিশ্ব কে নিজেদের শক্তি আরও একবার জানান দেয় বাংলাদেশ।
২০১১ বিশ্বকাপ বনাম ইংল্যান্ড
এই তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছে ২০১১ বিশ্বকাপে দেশের মাটিতে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি।
আগে ব্যাট করে ৪৯.৪ ওভারে ইংল্যান্ডকে ২২৫ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। এরপর ব্যাট করতে নেমে ১৬৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে যায় স্বাগতিকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও শফিউল ইসলামের ব্যাটে ভর করে এক ওভার হাতে রেখে ২ উইকেটের জয় তুলে নেয় সাকিব আল হাসানের দল।
২০১৫ বিশ্বকাপ বনাম ইংল্যান্ড
তিন নম্বরে রয়েছে ২০১৫ বিশ্বকাপের জয়। এই জয়টাও ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে আগে ব্যাট করে মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ২৭৫ রান করে মাশরাফির দল। এছাড়া মুশফিক ৮৯ রান করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৬০ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ফলে ১৫ রানের জয় পায় টাইগাররা। আর এই জয়ে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।
২০১৯ বিশ্বকাপ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
এরপর চার নম্বরে রয়েছে গেল ২০১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাওয়া জয়। দ্য ওভালে আগে ব্যাট করে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের অর্ধশতকে ৬ উইকেটে ৩৩০ রান করে টাইগররা। এটা বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড ছিল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করে প্রোটিয়ারা। ২১ রানের জয় পায় মাশরাফি বাহিনী।
