সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ৬টি বিয়ে করেছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বড় দুধপাতিলা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও প্রতারণার সময় তিনি শাহরিয়ার নাফিজ ইমন ও বুলবুল পরিচয় দিতেন। বিয়ের পর স্ত্রীদের আত্মীয়দের চাকরি দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এসব অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী পাংশা থানা পুলিশ ও র্যাব। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ।
পুলিশ সুপার বলেন, আবুল কালাম আজাদ নিজেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও সরকারি অডিট অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি রাজবাড়ী, ফরিদপুর, যশোর, পাবনা, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার দায়িত্বে আছেন পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করেন। পরে পাংশার এক কলেজ শিক্ষার্থীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। গত ৭ মার্চ তাকে বিয়েও করেন। বিয়ের পর ভাইয়ের চাকরি দেওয়ার কথা বলে আট লাখ টাকা নেন। গত ২৭ আগস্ট মেয়েটিকে ফরিদপুরে নিয়ে বিক্রির চেষ্টা করেন। মেয়েটি বিষয়টি বুঝতে পেরে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে পাংশা থানায় মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে তাকে নাটোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর সঙ্গে একটি বড় চক্র জড়িত। পুরো চক্রটিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ব্যক্তির ২০ এর অধিক বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর বিভিন্ন কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।
আসামি আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি চুয়াডাঙ্গায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন। পরে ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে তার পোস্টিং হয়। এসময় একটি নিয়োগের ঘটনায় চাকরী প্রার্থীদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেন। এছাড়াও তৎকালানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব আবুল কালাম আজাদকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা দেন। এর মধ্যে থেকে তিনি নয় লাখ টাকা কমিশন পান। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি প্রতারণায় আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় জড়িতদের নিয়োগ বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু তাকে ঘুষের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ঘুষের টাকা পরিশোধ করার জন্য বিয়ে করেন। বিয়ে করার পর চাকুরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেন।
