বিদ্যুতের তার চুরির অপবাদ দেওয়ায় রাজধানীর খিলগাঁও মধ্য নন্দীপাড়ায় গাছের সাথে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের এক অফিস সহায়ক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মৃত আবু মোহাম্মদ আলাউদ্দিন (৪৭) টাঙ্গাইল সখিপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন।
আজ সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে খিলগাঁও থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়ে সকালে মধ্য নন্দিপাড়ার ৪ নম্বর রোডের একটি মাঠে কড়ই গাছের সাথে গলায় রশি পেঁচানো ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের সখিপুরে পল্লী বিদ্যুতের অফিসের সহকর্মীরা তাকে বিত্যুতের তার চুরির অপবাদ দিয়ে আসছিলেন। সেই মিথ্যা অপবাদে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। সেই কারণে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবুও বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন আসিফ জানান, তার বাবা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করে আসছেন। গত আড়াই বছর ধরে চাকরি করেন টাঙ্গাইল সখিপুর উপজেলায়। তবে গত ৬-৭ মাস ধরে সেখানকার কর্মকর্তারা তাকে বিদ্যুতের তার চুরির অপবাদ দিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি-ধমকি দিতেন। তবে বরাবরই বিষয়টি মিথ্যা বলে নিজেকে নির্দোষ দাবি ছিল তার বাবা আলাউদ্দিনের। তবুও তাকে মানসিকভাবেও টর্চার করতেন।
তিনি আরও জানান, আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় মধ্য নন্দিপাড়ায় এক নম্বর রোডে তাদের বাসায় আসেন আলাউদ্দিন। এসে বাসার ভেতর না ঢুকেই তার জ্যাকেট এবং মোবাইল ফোন তাদের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, কিছুক্ষণ পরে বাসায় আবার আসতেছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তারা এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পান, ৪ নম্বর রোডে একটি গাছের সাথে গলায় ফাঁস দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে তারা সেখানে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান।
এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন সজনরা। এছাড়া তাকে মিথ্যা অপবাদ দেয় ওই কর্মকর্তাদের শাস্তিও দাবি করেন তারা।