দেশে ছোট-বড় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, গেস্ট হাউজ, ফাস্টফুড শপসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় চাহিদা বাড়ছে প্রফেশনাল শেফের। ‘এ কাস্টম প্যালেট লিমিটেড’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর, শেফ ও উদ্যোক্তা শুভব্রত মৈত্র জানালেন শেফ পেশার নানান দিক। কথা বলেছেন অরণ্য সৌরভ
ক্যারিয়ার হিসেবে শেফ পেশা
শুভব্রত মৈত্র : শেফ আশাপ্রদ বা সম্ভবনাপূর্ণ একটা ক্যারিয়ার। দেশ-বিদেশে শেফের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে তাই ক্যারিয়ার গড়ার বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। এই সেক্টরে যত বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি লেগে থাকা যায় ততই উন্নতি করা সম্ভব। পেশা হিসেবে শেফ খুবই সম্ভাবনাময় ও অ্যামাজিং।
শেফের কাজের ক্ষেত্র
শুভব্রত মৈত্র : শেফ হলে হোটেল বা রেস্টুরেন্ট দিয়ে ক্যারিয়ার গড়া যায়। খানিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হয়ে খাবারের ব্যবসা করা, কোম্পানির খাবারের সেক্টরেও কাজ করা যায়। মোটকথা একজন শেফের কাজের ক্ষেত্র বিস্তৃত, যেমন বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, গেস্ট হাউজ, ফাস্টফুড শপ, বেকারি, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, বিমান সংস্থা, পর্যটন শিল্প ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা যায়। দেশের বাইরেও ক্যারিয়ার গড়া যায় সহজে।
শেফের ধরন
শুভব্রত মৈত্র : শেফরা সবচেয়ে বেশি কাজ করেন কিচেনে। এখান থেকেই শেফের কাজ শুরু বলা যায়। মূল কাজটা মূলত রান্নার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। পাশাপাশি পণ্য, খাবার কেমন হচ্ছে, সেটার খরচ কেমন সে সবের ওপরই শেফের কাজ। কারিনারি ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক রকমের শেফ থাকে। যেমন লাইন ম্যানেজার হিসেবে বললে, শুরুতে ট্রেইনি কুক বা ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি কুক, এরপর কমি-৩ (একদম বেসিক লেভেল), কমি-২, কমি-১ এই তিনটি পর্যায় মিলে বেসিক ফোর্স ফর অ্যানি কিচেন। তাদের সুপাইভাইজারকে বলে ডেমি শেফ দ্য পার্টি। এর ওপরে রয়েছে শো-শেফ (পুরো কিচেনের দায়িত্ব), এভাবে অনেকগুলো শো-শেফের ওপরে থাকে এক্সিকিউটিভ শো-শেফ, এর ওপরে এক্সিকিউটিভ শেফ, তার ওপরে ক্লাস্টার এক্সিকিউটিভ শেফ।
পেশার চ্যালেঞ্জ কোথায়
শুভব্রত মৈত্র : এ পেশার প্রধান চ্যালেঞ্জ ধৈর্য ও বেতন। শুরুতে বেতন কম থাকে। মূলত এই পেশার বেতন পদ-পদবি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, যেমন কেউ যদি প্রথমে কমি-৩ পদে জয়েন করে তাহলে তার স্যালারি হবে ১০-১২ হাজার। কিন্তু ধীরে ধীরে পদ-পদবি ওপরে যাবে, তখন স্যালারি ২-৫ লাখের মতোও হয়ে থাকে। তবে সেজন্য প্রচ- ধৈর্যের পরীক্ষায় টিকতে হবে।
কেমন যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রয়োজন
শুভব্রত মৈত্র : এ কাজের জন্য প্রথমেই ভালোবাসতে হবে রান্না। কারণ রান্নার ওপরই কাজটি নির্ভরশীল। যোগ্যতার ক্ষেত্রে কমপক্ষে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়তে হবে। এছাড়া ৩-৪ বছরের মাস্টার্স ডিপ্লোমা ডিগ্রি নেওয়া এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ায় ভূমিকা রাখে। তবে শিক্ষা থাকলেও যদি দক্ষতা না থাকে তাহলে প্রথমে কমি-৩ পর্যায় থেকেই কাজ করতে হবে। তবে শিক্ষিত হলে পর্যায়ক্রমে এক্সিকিউটিভের স্থান পাবেন।
প্রশিক্ষণ নেবে কোথায়
শুভব্রত মৈত্র : বাংলাদেশ হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান। এছাড়া রয়েছে স্কুল অফ হসপিটালিটি ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশন (শাইন), যা বিশ্বমানের হসপিটালিটি এবং রন্ধনসম্পর্কীয় প্রতিষ্ঠান।
শেফের আয় কেমন
শুভব্রত মৈত্র : আয় মূলত কাজের ওপর নির্ভরশীল। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে শেফের বেতন। প্রাথমিক পর্যায়ে বেতন কম হলেও পর্যায়ক্রমে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন হতে পারে এ পেশায়।
