নির্বাচনী ইশতেহার কী?

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৫২ পিএম

আর কিছু দিন পরেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। প্রার্থীরা নিজ নিজ দল বা জোটের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। 

সাধারণত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দলগুলো প্রথাগতভাবে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে থাকে। এবারও সেটি শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে⎯ নির্বাচনী ইশতেহার আসলে কী?

রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের মনোযোগ ও সমর্থন আকর্ষণের উদ্দেশ্যে নানা প্রতিশ্রুতিসংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ ও প্রচার করে থাকে। সংক্ষেপে বলতে গেলে নির্বাচনী ইশতেহার হলো— নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে তুলে ধরা লিখিত ও মুদ্রিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনী ইশতেহার হলো এমন একটি প্রতিশ্রুতি বা গ্যারান্টি যা একজন প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের দ্বারা জনসাধারণের কাছে দেওয়া হয় এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করা হয়।

উইকিপিডিয়া বলছে, ইশতেহার ইতালীয় শব্দ ম্যানিফেস্টো বা ল্যাটিন ম্যানিফেস্টাম থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ স্পষ্ট বা সুস্পষ্ট। ইশতেহার হলো রাজনৈতিক দল বা সরকার, ব্যক্তি, গোষ্ঠীর লিখিত ঘোষণাপত্র যেখানে ইস্যুকারীর উদ্দেশ্য বা মতামত লিখিত থাকে। ইশতেহার সাধারণত পূর্বে প্রকাশিত মতামত বা জনসাধারণের সম্মতি গ্রহণ করে বা লেখকের বিশ্বাস করা উচিত এমন পরিবর্তনগুলো সম্পাদন করার জন্য প্রেসক্রিপটিভ ধারণাসহ একটি নতুন ধারণা প্রচার করে। এটি প্রায়শই রাজনৈতিক, সামাজিক বা শৈল্পিক প্রকৃতির হয়। কখনও কখনও বিপ্লবী হয়, তবে এটি একজন ব্যক্তির জীবনের অবস্থান উপস্থাপন করতে পারে। ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত ইশতেহারগুলোকে সাধারণত বিশ্বাস বা বিশ্বাসের স্বীকারোক্তি হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচনী ইশতেহারে সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে যার ভিত্তিতে দলটি নির্বাচনে জিতলে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করার কথা। কিন্তু এই ইশতেহার নিয়ে বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ দেখা যায় না। কারণ, বাংলাদেশে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পালনের বিশেষ রেওয়াজ নেই। তবে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় নির্বাচনী ইশতেহার জরুরি। 

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য থাকতে হবে ইশতেহারে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি যেন শুধু কথার কথা না হয়। দলগুলোর কাছে যেন ইশতেহার শুধু রুটিন ওয়ার্ট না হয়। সরকার গঠন করলে কী করবে আর বিরোধী দলে থাকলে কী করবে— এগুলোও ইশতেহারে থাকা দরকার। 

উন্নত দেশে ইশতেহারের গুরুত্ব অনেক। সেখানে ইশতেহার মানে কাঁধে গুরুদায়িত্ব নেওয়া— প্রতিজ্ঞা করা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ইত্যাদি পশ্চিমা দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় গেলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগ বাস্তবায়ন করে। আমাদের দেশের ভোটাররা কোন দলকে কী প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ভোট দেবেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নির্বাচনের পরে পূরণ করা হবে কি না— এটাই এখন দেখার বিষয়।

আগামী ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ। এবার বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো এ নির্বাচন বর্জন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। আরেকটি বড় দল জামায়াতের নিবন্ধনই নেই, তারাও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত