বরিশালে ঈগলের মিছিলে নৌকার গুলি, হামলা বাধা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:১৫ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রচারণাকালে হামলার শিকার হয়েছেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সমর্থরা। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সাভারে পুলিশের উপস্থিতিতে ঈগল সমর্থকদের বাড়িতে নৌকার সমর্থকরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল-২ আসনের বানারীপাড়ায় ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে ফাইয়াজুল হক রাজুর মিছিলে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

গাজীপুর : সোমবার রাতে নগরীর টঙ্গী ৪৬, ৪৮ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণাকালে একাধিক স্থানে নৌকা প্রতীকের সমথর্কদের দ্বারা বাধা ও হামলার সম্মুখীন হন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের কর্মী-সমর্থকরা ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের তিস্তার গেট এলাকায় নৌকার স্লোগান নিয়ে ট্রাক প্রতীকের গণসংযোগে বাধা দেয়। পরে ট্রাক প্রতীকের গণসংযোগের মিছিলটি ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বনমালা রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে নৌকার কর্মী-সমর্থকরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন ও তার প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলমকে লক্ষ্য করে রেলপথের পাথর ছুড়ে মারা হয়। তারা গণসংযোগ করে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদনগর ৮ নম্বর ব্লক মোড়ে পূর্বনির্ধারিত পথসভায় গাড়িতে দাঁড়িয়ে বক্তৃতাকালে সেখানেও একটি ভবনের ওপর থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে মারা হয়। তবে এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পরে এরশাদনগর ৮ নম্বর মোড়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নৌকার মিছিল নিয়ে  ট্রাক প্রতীকের পথসভার ভেতর ঢুকে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় পথসভা সংক্ষিপ্ত করে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহকারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দিকে চলে যান। একই সময় নৌকার স্লোগান নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকরা পেছন দিক থেকে ট্রাক প্রতীকের মিছিল অনুসরণ করে সামনে অগ্রসর হয়। একপর্যায়ে নৌকার মিছিলের একাংশ ট্রাকের মিছিলের ভেতর ঢুকে পড়লে উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। সংঘর্ষ এড়াতে স্বতন্ত্র প্রার্থী কর্মী-সমর্থকদের নিবৃত্ত করে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গাজীপুরায় গিয়ে গণসংযোগ করেন।

বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : গত সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নে জনসভা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের কাঁচি মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন ফিরোজুর রহমান। জনসভা শেষে প্রার্থীকে গাড়িবহর চান্দুরা মহাসড়ক থেকে বিদায় দেওয়া হয়। পরে চান্দুরা এলাকার ডাকবাংলো এলাকায় আক্তার হোসেনসহ তার লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ চালান। রাত পৌনে ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত এসে তাদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা আক্তার হোসেনসহ তিন কর্মী আহত হয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে  বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুল ইসলাম জানান, কে বা কারা ঘটনা ঘটিয়েছে তা সঠিক বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত কাজ করছে। এখন পর্যন্ত  থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। 

লক্ষ্মীপুর ও রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) : পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঈগলের সমর্থক সুমন হোসেনকে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য বলে আসছে নৌকা প্রার্থীর লোকজন। রাতে সাহেবেরহাট এলাকায় চা দোকানে বসে সুমনসহ অন্যরা  ঈগল মার্কা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন, হঠাৎ নৌকার পক্ষের  সমর্থক জেলা পরিষদের সদস্য গিয়াস উদ্দিন মোল্লাসহ অন্যরা দোকানে গিয়ে সুমনকে মারধর করেন। এর জের ধরে ঈগলের সমর্থক উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্যাহ হিরণসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে যান।

সেখান থেকে আসার পর নোয়াহাট খোলা এলাকায় পৌঁছালে নৌকার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করেন। এর জের ধরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষ হয়। এতে কমলনগর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও চরলরেন্স ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আহসান উল্যাহ হিরণ, যুবলীগের কর্মী মাকসুদুর রহমান বাবু, সুমন হোসেন, মাহফুজুর রহমানসহ সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় ৬টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

কমলনগর থানার ইনচার্জ (ওসি) মো. তহিদুল ইসলাম জানান, নৌকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল মার্কা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ভাঙচুর করা ৫টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

লালপুর (নাটোর) : নাটোরের লালপুরে একই স্থানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুল ও ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনী ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। যেহেতু পাশাপাশি নৌকা ও ঈগলের দুটি নির্বাচনী ক্যাম্পেই আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।

সাভার : ঢাকা-১৯ আসনে (সাভার-আশুলিয়া) পুলিশের উপস্থিতিতে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদের সমর্থকের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও নারীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. এনামুর রহমানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের নবি চাঁন ও সামাদের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই ভুক্তভোগীরা সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তাদের অভিযোগ না নিয়ে উল্টো থানার ডিউটি অফিসারের বিরুদ্ধে অসদাচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। 

হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঈগলের সমর্থক ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সহিংসতায় জড়াতে চাই না। আমরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতি, আওয়ামী লীগের আদর্শ মেনে চলি। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা। আমরা কোনো হামলা-সহিংসতা মেনে নেব না।’

সাভার মডেল থানার ভবানীপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি হোন্ডা আনা হলে পরে যাদের হোন্ডা তাদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন যুবক মদ খেয়ে উল্টাপাল্টা করায় নিজেদের মধ্যে বাগ্্বিতন্ডা হয়। তাদের আমি ডাকাইছিলাম। নির্বাচনের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।’

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে নৌকার প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়নের মুখপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বরিশাল : বরিশাল-২ আসনের বানারীপাড়ায় ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে ফাইয়াজুল হক রাজুর মিছিলে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং ১২টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইনুল ইসলাম।

ওসি মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ১২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর চারটি ভাঙচুর করা হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছে কি না জানি না।’ তবে এ ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে এ ঘটনায় ১২টি মোটরসাইকেল পোড়া ও চারটি ভাঙা অবস্থায় পেলেও গুলির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জনান বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অন্তরা হালদার। তবে ঘটনায় দ্রুত মামলা করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত