গ্রাহকের গুণগত মান যাচাই করে ঋণ বিতরণে ফের ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমান আইন অনুযায়ী ঋণ পাওয়ার অযোগ্য হলেও এসব গ্রাহককে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অযোগ্যদের ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন উদ্যোগ ব্যাংক খাতে মন্দ ঋণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং (আইসিসিআরআর) নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক ৮০-এর বেশি নম্বর পেলে তাকে ‘চমৎকার’, ৭০-এর বেশি এবং ৮০-এর কম নম্বর পেলে ‘ভালো’, ৬০-এর বেশি এবং ৭০-এর কম পেলে ‘প্রান্তিক’ এবং ৬০-এর নিচে নম্বর পেলে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিং দেওয়া হবে। তবে কোনো গ্রাহক গুণগত রেটিংয়ে যত নম্বরই পাক না কেন, পরিমাণগত রেটিংয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে তাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিং দেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নীতিমালার এই অধ্যায়ে শিথিলতা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল দেশে কার্যরত সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘দেশব্যাপী ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতিশীল রাখার লক্ষ্যে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের বিদ্যমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক খাত থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা প্রদানসহ বিদ্যমান ঋণ নবায়ন অব্যাহত রাখার নিমিত্ত বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নম্বর ০৭/২০২২-এর নির্দেশনা বলবতের সময়সীমা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নম্বর-১২, তারিখ : ২০ জুন ২০১৯ পুনর্বহাল হবে এবং এই সার্কুলার লেটারের নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে।’
প্রসঙ্গত, দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনকপর্যায়ে পৌঁছার প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ঋণের ঝুঁকি পরিমাপের নতুন নীতিমালা উদ্বোধন করেন গভর্নর ফজলে কবির। ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) নামের এই নীতিমালায় ঋণের পরিমাণ ও গুণগত উভয় ধরনের সক্ষমতার মূল্যায়ন শর্ত রাখা হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এই শর্তগুলো পূরণ না করেও ঋণ পাবেন গ্রাহক।
মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রাহককে চার শ্রেণিতে বিভাজন করবে ব্যাংকগুলো। কোনো গ্রাহক ‘চমৎকার’ (এক্সিলেন্ট) বা ‘ভালো’ (গুড) রেটিং পেলে ব্যাংক তাকে অর্থায়ন করতে পারবে। ‘প্রান্তিক’ (মার্জিনাল) রেটিংধারী গ্রাহককে পুরনো ঋণ নবায়ন বা নতুন করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিংধারীকে কোনো পরিস্থিতিতেই নতুন ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো, যদি না আগের ঋণ শতভাগ নগদ পরিশোধ হয় অথবা জামানত দিয়ে ঋণটি আচ্ছাদন করা হয়। ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিংভুক্ত গ্রাহকের আগের ঋণ সর্বোচ্চ দুবার নবায়ন বা বর্ধিত করা যাবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, রেটিং করার ক্ষেত্রে একটি পার্টি বা গ্রাহকের পরিমাণগত সক্ষমতায় ৬০ শতাংশ নম্বর এবং গুণগত সক্ষমতায় ৪০ শতাংশ নম্বর থাকবে। পরিমাণগত সক্ষমতা সূচকে ৬০ নম্বরের মধ্যে গৃহীত ঋণ ও আর্থিক সক্ষমতায় ১০, চলতি দায় ও তরল সম্পদে ১০, মুনাফার সক্ষমতায় ১০, সুদ পরিশোধের সক্ষমতা ও নগদ প্রবাহের ওপর ১৫, পরিচালনগত দক্ষতায় ১০ এবং ব্যবসার মানের ওপর ৫ নম্বর থাকবে। এ ছাড়া, গুণগত সক্ষমতায় ৪০ নম্বরের মধ্যে কার্যদক্ষতার আচরণে (পারফরম্যান্স বিহ্যাভিয়র) ১০, ব্যবসা ও খাত ঝুঁকিতে ৭, ব্যবস্থাপনা ঝুঁকিতে ৭, জামানত ঝুঁকিতে ১১, সম্পর্ক ঝুঁকিতে ৩ ও পরিপালন ঝুঁকিতে ২ নম্বর থাকবে।
