শিশু আয়ানের অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:৩৭ এএম

রাজধানীর বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খৎনা করাতে গিয়ে অচেতন হওয়া শিশু আয়ান আহমেদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর খৎনার জন্য তাকে বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় নেওয়া হয় গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানে তাকে রাখা হয়েছে লাইফ সাপোর্টে। পাঁচ দিনেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। দেয়নি কোনো সাড়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার অবস্থা অপরিবর্তিত আছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। ইউনাইটেড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিশু আয়ানের চিকিৎসারা জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড আজ (বৃহস্পতিবার) তার পরিবারকে দুইবার ব্রিফ করেছে। এ সময় তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আয়ানের দাদা ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, শামীমের দুই সন্তানের মধ্যে আয়ান বড়। তার খৎনার জন্য ৩০ ডিসেম্বর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা সব ঠিক দেখে ৩১ ডিসেম্বর নিয়ে যেতে বলেন। এরপর সময়মতো তারা ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। আয়ানকে খৎনার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার অনেক সময় পার হলেও আয়ানের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে আয়ানের বাবা শামীম অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, তার ছেলের নাকে-মুখে নল লাগিয়ে শ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তখন চিকিৎসকরা জানান, ফুল অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের জন্য এ অবস্থা। পরে আয়ানকে মুমূর্ষু অবস্থায় গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে আনা হয়।

এর আগে গত বুধবার আয়ান আহমেদের খালু মোহাম্মদ মানিক বলেন, হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ চার দিন ধরে আমাদের নানাভাবে আশা দিয়ে যাচ্ছে। আয়ান বেঁচে আছে, তাকে বাঁচানো যাবে বলে মিথ্যা কথা বলছেন চিকিৎসকরাও। তাদের কথা আমরা আশায় বুক বেঁধে ছিলাম। কিন্তু আয়ান বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে স্পষ্ট করে কিছুই বলছেন না। এখন চিকিৎসকরা বলছেন, আয়ানের লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হবে কি না পরিবারকে সিদ্ধান্ত নিতে।

মোহাম্মদ মানিক বলেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেও আয়ান হাসিমুখে বাড়িতে খেলছিল। চিকিৎসকরা খৎনা করতে নিয়ে যাওয়ার সময়ও ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়েছিল আয়ান। কিন্তু এটাই ছিল শিশু আয়ানের শেষ হাসি। চার দিন ধরে আয়ানের ফিরে আসা ও হাসিমুখ দেখতে হাসপাতালে অপেক্ষার প্রহর গুনছে পুরো পরিবার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত