ভোট সামনে রেখে অ্যামনেস্টির ১০ দফা মানবাধিকার সনদ

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৬ এএম

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১০ দফা মানবাধিকার সনদ দিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি গত বৃহস্পতিবার তাদের ওয়েবসাইটে ওই সনদ প্রকাশ করে বলেছে, ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হবে। নির্বাচন সামনে রেখে তারা এই মানবাধিকার সনদ দিয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সব রাজনৈতিক দলের মূল পরিকল্পনায় মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের বিষয়টি যাতে থাকে, তা নিশ্চিত করতে তারা সব দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

অ্যামনেস্টির ১০ দফায় ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস (আইসিসিপিআর), ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন ইকোনমিক, সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল রাইটসের (আইসিইএসআর) মতো আন্তর্জাতিক চুক্তির মেনে মানবাধিকার রক্ষার বাধ্যবাধকতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সংবিধানে থাকা মানবাধিকারসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। ১০ দফা সদনের মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, প্রতিবাদ কর্মসূচিকে দমন না করা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির অবসান, করপোরেট দায়বদ্ধতা ও শ্রম অধিকার সমুন্নত রাখা, নারীর অধিকার রক্ষাসহ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অ্যামনেস্টির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত দফার প্রতিটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিদ্যমান পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণও দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দফার ক্ষেত্রে পৃথকভাবে কিছু সুপারিশও রেখেছে সংগঠনটি। অবশ্য ১০ দফা এজেন্ডার ক্রমবিন্যাস অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করা হয়নি বলে উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার সনদে সুপারিশ হিসেবে অ্যামনেস্টি সাইবার নিরাপত্তা আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানদণ্ড অনুযায়ী, সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিবাদের কর্মসূচির বিষয়ে সুপারিশ হিসেবে বলা হয়েছে, জনতার বিক্ষোভ মোকাবিলার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত শক্তির ব্যবহার বন্ধ করুন। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সুরক্ষাসহ তা পালনে সহায়তার বাধ্যবাধকতা পূরণ করুন।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানেও আহ্বান জানিয়ে করা সুপারিশে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা করুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করুন। দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনুন। রোহিঙ্গা শিশুদের যথাসময়ে উপযুক্ত, মানসম্মত ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করুন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীরা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের প্রকৃত ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, নিজ মাতৃভূমিসহ এমন কোনো স্থানে তাদের স্থানান্তর না করার বিষয়টি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির অবসানের আহ্বান জানিয়ে অ্যামনেস্টি সুপারিশ করেছে আপত্তি ছাড়াই গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার সনদ অনুমোদন করুন। গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তা দেশের আইনি ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করুন। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সফরের জন্য গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের অনুরোধ গ্রহণ করুন। গুমের শিকার ব্যক্তি, পরিবারের জন্য পূর্ণ ও কার্যকর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করুন। পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অন্যান্য বিভাগের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কার্যকর, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করুন।

এ ছাড়া নারীর অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার রক্ষা, মৃত্যুদণ্ড বিলোপ, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাংলাদেশে শ্রমিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, শ্রম আইনে শিশুর সংজ্ঞা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত