প্রচারের শেষ দিনে ৪ প্রার্থীকে শোকজ মেহেরপুরে

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৬ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের শেষ দিন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মেহেরপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে (শোকজ) নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর উপজেলা) আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এইচ এম কবির হোসেন স্বাক্ষরিত আলাদা চিঠিতে তাদের শোকজ করা হয়।

জানা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভগ্নিপতি আবদুস সামাদ বাবলু বিশ্বাসের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মান্নান ও তার নির্বাচনী সমন্বয়ক মিয়াজান আলী এবং মেহেরপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশানকে শোকজ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘ভোটের দিন কোনো কেন্দ্রে ট্রাকের এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হবে না’ এমন বক্তব্য দিয়ে হুমকি দেওয়ায় নৌকা প্রার্থীর সমর্থক আবদুস সামাদ বাবলুকে স্বপ্রণোদিত হয়ে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।

শোকজে বাবলু বিশ্বাসকে বলা হয়েছে, ‘১ জানুয়ারি রাতে নৌকার নির্বাচনী জনসভায় বাবলু বিশ্বাস বলেন, “পিরোজপুরে চারটি সেন্টারে আমি যেন দেখতে না পাই ট্রাক প্রতীকের কোনো এজেন্ট আছে। তারা কীসের ভয় দেখায় আমি তো বুঝতে পারি না। আমার চেয়ে মাস্তান বেশি কে আছে? আমার চেয়ে যন্ত্রপাতি কার বেশি আছে? আমার চেয়ে কি টাকা তাদের বেশি আছে? তাহলে কীসের ভয় দেখায়। যারা আমার কাছে কাজ করে খেত কদিন আগে, তারা ভয় দেখায় কীসের? জমি তিন বিঘা, জমি কেড়ে নেব”।’ তার এমন বক্তব্য সংসদ নির্বাচন প্রার্থীর (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ১১ (ক) ও ১১ (ঙ) লঙ্ঘন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আজ শনিবার বাবলু বিশ্বাসকে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে শোকজের জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর শোকজে বলা হয়েছে, ২ জানুয়ারি পিরোজপুর ইউনিয়নের কাঁঠালপোতায় নির্বাচনী জনসভায় আবদুল মান্নান বলেছেন, “দুর্গা ডোবার আগে এসে হাত মেলাও”, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মিয়াজান আলী সম্পর্কে অভিযোগে বলা হয়েছে, একই দিন নির্বাচনী জনসভায় কাঁঠালপোতায় তিনি বলেছেন, ‘ভোটের পরের দিন সবকিছু দখল করে নেওয়া হবে এবং চাবি কেড়ে নেওয়া হবে।’

আর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশানের বিরুদ্ধে ‘বাবলু বিশ্বাস এবং ফরহাদ হোসেন ক্যাসিনো ও টেন্ডারের নিয়ন্ত্রক, হাজার কোটি টাকা পাচারকারী এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী সৈয়দা মোনালিসা ইসলামকে মেহেরপুরের ক্যাসিনো রানী’ বলেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় আবদুল মান্নান, মিয়াজান আলী এবং শহিদুল ইসলাম পেরেশানকে অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে শোকজের জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও নৌকার প্রার্থী চয়নকে শোকজ : নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী চয়ন ইসলাম ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহ আজমকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ করেছেন নির্বাচন অসুসন্ধান কমিটির কর্মকর্তা ও শাহজাদপুর চৌকি আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. মামুন-অর-রশিদ।

এই আদালতের বেঞ্চ সহকারী জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচন অসুসন্ধান কমিটির কর্মকর্তা ও শাহজাদপুর চৌকি আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. মামুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত চিঠি ওই দুই ব্যক্তির কাছে এদিন দুপুরেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের নৌকার প্রার্থী চয়ন ইসলাম ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহ আজম রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয় ও উপস্থিত অন্য শিক্ষকদের ব্যবহার করে ৩ জানুয়ারি নির্বাচনী কর্মকা- পরিচালনা করেছেন। যার ভিডিও ফুটেজ ৪ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হয়েছে। যার দ্বারা নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮-এর ৪(১) নং এবং ১৪(২) নং বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। এ চিঠিতে আরও বলা হয়, এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ প্রেরণ করা হবে না তৎমর্মে আগামী শনিবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ৩টার মধ্যে শাহজাদপুর চৌকি আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. মামুন-অর-রশিদের কার্যালয়ে ব্যক্তিগতভাবে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত