নিজের ভোট দিতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ওই কেন্দ্রে নৌকা ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর এজেন্ট দেখেননি বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান।
সিইসি বলেন, ‘আসলে মনে হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষ প্রার্থী যারা তাদের পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সামর্থ্য নেই।’ পোলিং এজেন্টের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব জোর দিয়ে বলেছিলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হতে হলে কেন্দ্রে অবশ্যই প্রত্যেকটা প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট থাকতে হবে। আমি যেগুলো পেয়েছি সবাই একই দলের, নৌকার প্রার্থীর। বাদবাকি প্রার্থীদের কোনো লোকজন দেখিনি।’
ভোটগ্রহণ শেষে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সরকারের সহযোগিতা ছিল বলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছে।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করা সম্ভব, সেটা আমরা আগেও বলেছি। কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকে। সে ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি সরকারের যে পলিটিক্যাল উইল (রাজনৈতিক সদিচ্ছা) অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার, সেটা ছিল। সেই সঙ্গে সরকারের তরফ থেকে আন্তরিকতা ছিল। নিশ্চয়তা বিধান করার কথা ছিল।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কি হবে না সেটা বোঝা যাবে চূড়ান্ত ফলাফলের পর। সেটা আমরা বলব না। আপনারা কী বলেন, জনগণ কী বলে ও গণমাধ্যমে কীভাবে উঠে আসে, এর ওপর আমরা বলতে পারব নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্য হয়েছে।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে বলে মনে করেন হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, প্রকৃত হিসাব এখন বলা যাবে না। সব ভোট গণনার পর এই হিসাব বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।
এই নির্বাচন নিয়ে স্বস্তির কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘বড় জিনিসটা হচ্ছে মোটামুটিভাবে নির্বাচনের যে আশঙ্কাটা, আমাদের যে একটা শঙ্কা ছিল ভোটার উপস্থিতি হয়তো আরও অনেক কম হবে। এটার কারণ হচ্ছে, একটি জাতীয় নির্বাচনে বড় একটি পক্ষ নির্বাচন বর্জন করে পরোক্ষভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। তার কিছু সিম্পটম হয়তো ওটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। কিন্তু কয়েকটি কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতদিন একটি ট্রেনে আগুনের মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অনেকের মনেই এগুলো দেখে এক ধরনের শঙ্কা জাগ্রত হতে পারত যে নির্বাচনটা সহিংস হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি অনেক ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের চেষ্টা করেছে।’
তিনি বলেন, ২৯৯ আসনে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সারাক্ষণ খোঁজখবর রেখেছিল। তারা বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরেছেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল। পরে টিভিতে সহিংসতার ঘটনা দেখেছেন। তবে গুরুতর কিছু ঘটেনি। এজন্য কয়েকটি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করতে হয়েছে। একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে হয়েছে।
নির্বাচনী সহিংসতায় কোনো মৃত্যু ঘটেনি দাবি করে সিইসি স্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে কিছু আহত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু জায়গায় অনিয়ম হয়েছে। কিছু জায়গায় সিল মারা হয়েছে। কিছু ফলস নিউজও এসেছিল। চেক ক্রস চেক করে নিশ্চিত হওয়ার পর রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
সিইসিসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা সারা দেশে চষে বেড়ানোয় ভোট নিয়ে আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘মিটিংয়ের সময় তাদের (প্রার্থীরা) অনাস্থার কথা বলেননি। তারা কিন্তু প্রশাসন ও পুলিশের ব্যাপারে খুব সামান্য দুই-চারটি অভিযোগ ছাড়া অধিকাংশই আমাদের বলেছেন, প্রশাসনের আচরণে পক্ষপাতিত্ব দেখেননি। আর যাদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি তাদের উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছি।’
