দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল রবিবার বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর আগে গতকাল ভোটগ্রহণ চলাকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার ওসি তোফায়েল আহমেদকে থানার কক্ষে এমপি মোস্তাফিজুরের ধমক দেওয়ার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন সর্বসম্মতিক্রমে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ভোটগ্রহণ শেষের মাত্র ১৫ মিনিট আগে এমন সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি হুমকি প্রদর্শন করেছেন এই প্রার্থী।
মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলা হয়েছে জানিয়ে জাহাংগীর আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি হুমকি প্রদর্শন করেছেন তিনি। চরম আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তার এই প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
ওই আসনে ভোট চলবে কি না জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ওই আসনে যদি একাধিক প্রার্থী থাকে তাহলে অবশ্যই সেখানে ভোট চলবে।
জানা গেছে, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল গফুরকে আটক করে পুলিশ। পরে থানায় এসে ওসিকে ধমকান এমপি।
কয়েক দিন আগেও এমপি মোস্তাফিজুর ওসি তোফাজ্জলের মোবাইল ফোনে কল করে কোনো পুলিশ সদস্য তার লোকের ওপর হাত দিলে সেই পুলিশ সদস্যের হাত কেটে ফেলার হুমকি দেন।
ওসি তোফায়েলকে ফোনে হুমকির আগে চট্টগ্রামে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন সাংবাদিকদের হয়রানি করার অভিযোগেও আলোচনায় এসেছিলেন এই সংসদ সদস্য।
বিভিন্ন সময় নানা ঘটনায় আলোচিত মোস্তাফিজুর। কয়েক বছর আগে এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধর করে প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি।
এদিকে বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বিকেল ৩টায় উত্তর সরল প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করে। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকশ নেতাকর্মী ছিলেন।
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের মুজিবুর রহমানের সমর্থকরা সংসদ সদস্যের ওপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে বলে অভিযোগ করেন মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল। তিনি বলেন, ‘উত্তর সরল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে এমপি মহোদয় সেখানে যান। এ সময় ঈগল প্রতীকের লোকজন তার ওপর হামলা চালিয়েছে। ওনার মাথা ফেটেছে। সংসদ সদস্যের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।’
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমানের ঈগল প্রতীকের কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক মানিক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চলছিল। সংসদ সদস্য নিজে এসে কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেয়। তিনি লোকজনকে ধমকালে উত্তেজিত লোকজন তার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এখানে ঈগল প্রতীকের কোনো সমর্থক ছিল না।’
এই আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া আওয়ামী লীগের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন। তারা হলেন ঈগল প্রতীকের মুজিবুর রহমান ও ট্রাক প্রতীকের আবদুল্লাহ কবির। মুজিবুর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও আবদুল্লাহ কবির দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
