মোদিকে কটূক্তি মালদ্বীপের তিন মন্ত্রী বরখাস্ত

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:২১ এএম

ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ভারত ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য করার পরিপ্রেক্ষিতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু তার সরকারের তিন মন্ত্রীকে অপসারণ করেছেন। আবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মালের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশটিতে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে নয়াদিল্লি-মালে সম্পর্কে অস্থিরতা শুরু হয়। কারণ বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ‘চীনপন্থি’ হিসেবে পরিচিত।

গতকাল সোমবার ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, চলতি টানাপোড়েনের কারণে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার ইব্রাহিম সাহিবকে তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপ ভ্রমণে যান। এই সফরে নানা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। এ সময় তিনি ভারতীয়দের মালদ্বীপের পরিবর্তে লাক্ষাদ্বীপ ভ্রমণের আহ্বান জানান। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিপূর্ণ পোস্ট করেন মালদ্বীপের তিন মন্ত্রী।

এ বিষয় নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় মালদ্বীপের ভেতর থেকেই। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এসব মন্তব্যকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দেন। মুইজ্জুর বর্তমান প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের এ ধরনের কথাবার্তা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ অবস্থায় মুইজ্জু তার প্রশাসনের তিন মন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন। এই তিন মন্ত্রী হলেন মরিয়াম শিউনা, মালশা শরিফ ও মাহজোম মাজিদ। এদিকে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের জেরে অনেক ভারতীয় তাদের পূর্বনির্ধারিত মালদ্বীপ সফর বাতিল করেছেন।

মালদ্বীপ সরকার একটি বিবৃতির মধ্য দিয়ে জানায়, সরকারি পদে থেকে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেশী ভারতকে ‘অবমাননা’ পোস্ট দিয়েছেন, তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাকস্বাধীনতার চর্চা করা উচিত। এমন কিছু করা উচিত নয় যার ফলে ঘৃণা বা নেতিবাচক কিছু ছড়ায়। সেই সব কাজও করা উচিত নয়, যা মালদ্বীপ এবং এর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

ভারতের অন্যতম মিত্রদেশ ছিল মালদ্বীপ। দেশটিতে নয়াদিল্লির একটি ঘাঁটিও ছিল, যা মুইজ্জুর সরকার রাখতে চাইছিল না। পরে ভারতও ঘাঁটি সরিয়ে নিতে মত দেয়। মূলত মালদ্বীপের নির্বাচনে ‘ভারতপন্থি’ বলে পরিচিত মোহাম্মদ সোলিহকে হারিয়ে মুইজ্জু জয়লাভ করার পর মালে-নয়াদিল্লির সম্পর্কের অবনমন শুরু হয়। তবে মুইজ্জু বলছিলেন, তিনি চীন কিংবা ভারত কোনো অক্ষের দিকেই একপেশেভাবে থাকতে চান না। তিনি ‘ভারসাম্যমূলক নীতি’ চান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত