সীতাকুন্ডে আতঙ্ক তৌহিদ-মোরশেদ

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৭ এএম

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গ্রাম সর্দার নুর মোস্তফা বজলের হত্যাকান্ডে আলোচিত নাম ডাকাত তৌহিদ। ছোটবেলা থেকে হিংস্র তৌহিদ ছিলেন সহপাঠীদের আতঙ্ক। বড় হতে হতে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন পুরো এলাকার আতঙ্ক। আপন মামাতো ভাই হওয়ার কারণে একাধিকবার গণপিটুনির হাত থেকে তৌহিদ ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড মোরশেদকে বাঁচিয়েছিলেন ফুপাতো ভাই বজল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই দুজনের হাতেই প্রাণ হারাতে হলো গ্রাম সর্দার বজলকে।

তৌহিদ সীতাকুন্ডের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের পশ্চিম লালানগর গ্রামের আবুল খায়েরের এবং মোরশেদ বহরপুর গ্রামের মৃত নুরুল আবসার কালুর ছেলে। দুজনই এখন সীতাকুন্ডের মূর্তিমান আতঙ্ক। তাদের নামে থানায় আছে দেড় ডজনেরও বেশি মামলা।

সীতাকুন্ড উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বৈদ্যপুকুরে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রথমে ভয়ে মুখ খুলতে না চাইলেও পরিচয় জানার পর তৌহিদ ও তার সহযোগী মোরশেদের বিষয়ে একের পর এক ঘটনার বর্ণনা দিতে থাকেন এলাকাবাসী।

তৌহিদ ও তার বাহিনীর ঘটানো বিভিন্ন ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা শুনলে শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী বখাটে তৌহিদ ছোটকাল থেকেই ছিল এলাকার আতঙ্ক। সমসাময়িক ও সহপাঠীরা তাকে সবসময় এড়িয়ে চলত। তৌহিদ ও মোরশেদ দুজনেই আগে ছিল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০১ সালের পর সৈয়দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম নিজামীসহ অসংখ্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায় তৌহিদ বাহিনী। ২০০৫ সালে এক আওয়ামী লীগ কর্মীর গর্ভবতী জীবিত গাভীর একটি পা কেটে বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেন তৌহিদ। ১/১১’র পর বিদেশ চলে যান তিনি। পরে ২০১৫ সালের দিকে দেশে ফিরে এসে নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করতে থাকেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে দলের নেতা পরিচয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে যায় তৌহিদ-মোরশেদ গং। নারীদের তুলে নিয়ে নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি, মানুষজনের কাছ থেকে টাকা কেড়ে নেওয়া, মদের কারখানাসহ এমন কোনো অপরাধ ছিল না যা তারা করত না।

দিনে দিনে আরও দুর্ধর্ষ ও নৃশংস হয়ে ২০১৬ সালে নুরুল হুদা নামের এক যুবদল নেতার পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন তৌহিদ। কয়েক দিন পর এক ফেরিওয়ালার হাতের পাঁচটি আঙুল কেটে তাকে খাইয়ে দেয় গংটি। গড়ে তোলে নিজস্ব বাহিনী ও টর্চার সেল। সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে আপন ফুপাতো ভাই নুর মোস্তফা বজলকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে তৌহিদ ও তার সহযোগী মোরশেদসহ কয়েকজন। এর বছরখানেক আগে বজলের ছেলে তওসিফকে হত্যার চেষ্টা চালালে গণধোলাইয়ে মরার মুখ থেকে বাঁচান বজল নিজে।

বজলের ছেলে তওসিফ বলেন, ‘বাবা এক বছর আগে যাকে বাঁচিয়েছিলেন সেই আমার বাবাকে হত্যা করেছে। আমার বাবা কোনো রাজনীতি করতেন না। সমাজের সর্দার ছিলেন। সবসময় তৌহিদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন। এই কারণে তৌহিদ বাহিনী তাকে হত্যা করে।

বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মাসুম বলেন, ‘তৌহিদ আগে যুবদল করত। তবে সে বর্তমানে যুবলীগ করে।’

তবে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে তৌহিদ গংয়ের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী এসএম আল মামুন বলেন, অপরাধ ঢাকতে ও অবৈধ সুবিধা নিতে দলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

সীতাকুন্ড মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, তৌহিদের নামে বিভিন্ন অপরাধে ১৯টি মামলা চলমান। তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মোরশেদের নামেও একাধিক মামলা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত