বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:০০ এএম

বিসিএস এমন একটি মনোদৈহিক পরীক্ষা, যার প্রস্তুতি কখনো সম্পূর্ণ হবে না। যেহেতু ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আসন্ন কাজেই প্রস্তুতি যা নেওয়া হয়েছে, এখন সেটুকুই শানিত করতে হবে, সর্বোত্তম প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সব বিষয়ের সমান প্রস্তুতি নিতে হবে। কোনো বিষয়ের প-িত হওয়ার দরকার নেই, আবার কোনো বিষয়কে পাশ কাটিয়ে ক্যাডার হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। একমাত্র তুমিই জানো, তোমার কোন বিষয়ে ঘাটতি আছে, সেটা পূরণ করে নাও। অধ্যবসায় ও ধৈর্য ছাড়া বিসিএস নামক বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব না। দেশের স্বনামধন্য বিসিএস কোচিংগুলোতে ১০ বছর ধরে ক্লাস নিচ্ছি, আসন্ন ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (প্রিলি) পরীক্ষা উপলক্ষে সেই অভিজ্ঞতার আলোকে একটি সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইন দেওয়ার চেষ্টা করছি।

মনোদৈহিক প্রস্তুতি

বিসিএস শুধু একটি পরীক্ষা না, একটি সাইকোলজিক্যাল গেম। সব দিক থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রথমেই বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অতিরিক্ত আকাক্সক্ষা ত্যাগ করতে হবে, কারণ এটা প্রার্থীকে নার্ভাস করে দেয়, যার ফলে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করে না। মনে রাখবে, আমাদের দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বিসিএস ক্যাডারের মূল্য অনেক বেশি, তোমাকে অবশ্যই ক্যাডার হতে হবে, কিন্তু না হলেও জীবন তার গতিতে চলবে। নিত্যদিনের ঝামেলাগুলোকে মনে স্থান দেওয়া যাবে না, তোমাকে তার সমাধানও করতে হবে না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু এমনিতেই সমাধান হয়ে যাবে। পাশাপাশি দৈহিক সুস্থতার দিকেও নজর দিতে হবে। নিয়মিত গোসল, হালকা ব্যায়াম, পরিমিত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখবে, দৈহিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকলেই কেবল তোমার অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারবে।

২০০ নম্বরের প্রিলি প্রস্তুতি

দৈনিক রুটিন করে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়তে হবে। কোনো বিষয়ে ঘাটতি থাকলে সেখানে জোর দিতে হবে, অধিকাংশ সময় পুরনো পড়া রিভিশন দিতে হবে এবং এ সময় খুব দরকারি মনে না হলে নতুন কিছু পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ২০০ নম্বরের মধ্যে ৪০% নম্বর বিগত প্রশ্নগুলো থেকে হুবহু কমন পাওয়া যাবে। কাজেই খুব ভালো করে বারবার রিভিশন দিতে হবে। ৪০% নম্বর বিগত প্রশ্নগুলো থেকে মডিফাই করে আসবে। কাজেই বিগত সালের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে পড়তে হবে। ২০% প্রশ্ন মোটামুটি ব্যান্ডনিউ হবে, এর জন্য যে কোনো পড়া বুঝে পড়তে হবে। সহজ প্রশ্নের নম্বর ১ আবার ঝামেলাপূর্ণ প্রশ্নের নম্বরও ১, তাই ঝামেলা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

বাংলা (৩৫ নম্বর)

প্রিলি পরীক্ষায় বাংলা ভাষা অংশ থেকে ১৫ এবং সাহিত্য থেকে ২০ নম্বর আসে। ভাষা অংশে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ খুব ভালো করে রিভিশন দিতে হবে। পাশাপাশি বানান ও বাক্যশুদ্ধি, সমার্থকশব্দ, বিপরীতশব্দ, সন্ধি, সমাস, বিরামচিহ্ন, বচন, দ্বিরুক্তি শব্দ, ণত্ব-ষত্ব বিধান ভালো করে পড়তে হবে। সাহিত্য থেকে প্রাচীন ও মধ্যযুগ থেকে গতানুগতিক কিছু প্রশ্ন এবং আধুনিক যুগ থেকে ১১ জন কবি সাহিত্যিক সম্পর্কে ভালো করে জানতে হবে।

ইংরেজি (৩৫ নম্বর)

ইংরেজি ভাষা অংশ থেকে ২০ এবং সাহিত্য অংশ থেকে ১৫ নম্বর আসে। ভাষা থেকে Parts of speech, Idioms and phrases, Clauses, Corrections, Sentence transformations, Synonyms, Antonyms, Spellings-এর ওপর জোর দিতে হবে এবং ইংরেজিতে দুর্বলতা থাকলে বিগত প্রশ্নগুলো বারবার রিভিশন দিতে হবে। সাহিত্য অংশ থেকে মুখস্থ করা ছাড়া উপায় নেই। Period of English literature, Quotations, William Shakespeare সহ বিভিন্ন গ্রন্থের রচয়িতা, রচনার বিষয়বস্তু ভালো করে পড়তে হবে।

গাণিতিক যুক্তি (১৫ নম্বর)

বীজগণিত ও জ্যামিতির ওপর জোর দিতে হবে। পাটিগণিত অংশ থেকে শুধু বিগত সালের প্রশ্নগুলো চর্চা করলেই হবে। কোনো শর্টকাট পদ্ধতি অবলম্বন না করে পুরো অঙ্ক বুঝে করতে হবে, তাহলে নিজের ভেতর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শর্টকাট বের হয়ে আসবে। পাশাপাশি সেট, বিন্যাস ও সমাবেশ, পরিসংখ্যান, সম্ভাব্যতা দেখতে হবে।

মানসিক দক্ষতা (১৫ নম্বর)

মানসিক দক্ষতা নির্ভর করবে বিসিএসের সামগ্রিক প্রস্তুতির ওপর। সব বিষয়ের প্রস্তুতি ভালো হলে মানসিক দক্ষতাও ভালো হবে। এই অংশের প্রশ্নগুলোকে যৌক্তিক ব্যাখ্যা করে পড়তে হবে। বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে পড়লেই ভালো করা যাবে।

সাধারণ বিজ্ঞান (১৫ নম্বর)

সাধারণ বিজ্ঞান অংশ থেকে প্রশ্ন অনেকটাই গতানুগতিক হয়। ভৌত বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং আধুনিক বিজ্ঞান থেকে ৫ নম্বর করে থাকবে। বিগত সালের প্রশ্ন বুঝে পড়লে ভালো করা যাবে।

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (১৫ নম্বর)

কম্পিউটার অংশ থেকে ১০ এবং তথ্যপ্রযুক্তি থেকে ৫ নম্বর থাকবে। কম্পিউটারের অঙ্গ সংগঠন, প্রকারভেদ, অপারেটিং সিস্টেম, প্রোগ্রাম, ভাইরাস ইত্যাদি ভালো করে পড়তে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি থেকে সেলুলার ডাটা নেটওয়ার্ক  (3G, 4G, 5G) কম্পিউটার নেটওয়ার্ক (lan, man, WiFi, WiMax) সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং, তথ্যপ্রযুক্তির জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি (৩০ নম্বর)

প্রাচীন ও সমসাময়িককালের ইতিহাস থেকে গতানুগতিক প্রশ্নগুলো পড়লেই হবে। ১৯৪৭ থেকে ’৭১ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু, সংবিধান সম্পর্কে খুব ভালো করে জানতে হবে। জনশুমারি, উপজাতি, ফসলের উন্নত জাত, অর্থনৈতিক সমীক্ষার পাশাপাশি সাম্প্রতিক (ফুটবল, ক্রিকেট, নোবেল পুরস্কার)-এর ওপর নজর দিতে হবে। তবে সাম্প্রতিক বিষয়ে অতিরিক্ত পড়া ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (২০ নম্বর)

বিশ্বের চলমান ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ইস্যু কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সংগঠনের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক বিচার করে পড়তে হবে।

নৈতিকতা ও সুশাসন (১০ নম্বর)

এই অংশ থেকে শুধু বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে পড়তে হবে এবং নতুন কোনো প্রশ্ন এলে যৌক্তিক ব্যাখ্যা করে উত্তর দিতে হবে। ৬-৭ নম্বর খুব সহজেই পাওয়া যাবে।

ভূগোল (১০ নম্বর)

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশের ভালো প্রস্তুতি থাকলে ২-৩ নম্বর ওখান থেকেই কমন পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা, আবহাওয়া ও জলবায়ু, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক ঘটনার দিকে নজর দিতে হবে।

মুসা হিতাম

সিনিয়র শিক্ষক, বিসিএস প্রস্তুতি কোচিং

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত