অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:২২ এএম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন দেশের অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য বলেছেন তিনি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাল্যবন্ধু শেখ কামালসহ অন্যান্য শহীদের কবরে শ্রদ্ধা ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এই নির্দেশের কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ সব ধরনের অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করে দিতে গতকাল সকালেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন দেশে প্রকৃতপক্ষে কতগুলো অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে। এসব অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিতে শিগগির অভিযান শুরু করা হবে। এর মধ্যেই অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মালিকরা নিজেরাই যদি বন্ধ করে দেয় ভালো, না হলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা করছেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসাপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান। তিনি বলেন, আজকেও অনেকগুলো বন্ধ করা হয়েছে। হাইকোর্ট তালিকা করতে বলেছে। আগে আমরা তালিকা করব। তারপর সেই তালিকা অনুযায়ী অভিযানে নামব।

আয়ানের মৃত্যুতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: রাজধানীর সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনা করাতে এসে মারা যাওয়া শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেছেন, শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যে-ই দোষী প্রমাণিত হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার আয়ানের বাবা ও দাদাসহ পরিবারের সদস্যরা সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা আয়ানের মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ও দুই চিকিৎসকের গাফিলতি তুলে ধরেন। সে সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনা করানোর জন্য আনা হয় আয়ানকে। সেদিন সকাল ৯টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আয়ানের খতনা করা হয়। খতনার পর বেলা ১১টায়ও জ্ঞান না ফিরলে আয়ানকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে এনে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানে টানা আট দিন শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে আয়ানকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৯ জানুয়ারি ৪ সদস্যের এবং ১ জানুয়ারি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি করেছে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। উভয় তদন্ত কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত আছে। আমরা আজকেই (গতকাল) জমা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সম্পূর্ণ করতে পারিনি। আগামীকাল (আজ) সিলখামে প্রতিবেদন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত