ওতাবেকের কারণে শেখ জামালকে ফিফার শাস্তি

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:০৩ পিএম

গত জুনে ১০ দিনের ছুটি নিজ দেশ উজবেকিস্তানে ফিরেছিলেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ফরোয়ার্ড ভালিজোনভ ওতাবেক। প্রিমিয়ার লিগ চলাবস্থায় মানবিক দিক চিন্তা করে তাকে ছুটি দেয় ধানমন্ডির ক্লাবটি। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ওতাবেক ফিরেননি। তাকে ভিসা দেওয়ার জন্য যা যা আনুষ্ঠানিকতা করা দরকার ছিল তার সবকিছুই করেছিল শেখ জামাল। তবে ভিসার জন্য আবেদন করেননি এই ফুটবলার। নিয়মভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ বাফুফে এবং ফিফায় অভিযোগ করলে জামালের পেতো ন্যায় বিচার। উল্টো ছোট্ট এই ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে শেখ জামালকে। দু'মাসের বেতন বকেয়া দাবী করে ফিফায় জামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বর্তমানে ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলা ওতাবেক। ফিফা শেখ জামালকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি, দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলার নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা। গত বছর ১‌১ ডিসেম্বর ফিফা চিঠি দিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে শেখ জামাল ও বাফুফেকে। 

বেতন-ভাতা নিয়ে বিদেশীদের ফিফায় অভিযোগের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। প্রায় প্রতি মৌসুমেই বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে এক বা একাধিক অভিযোগ যায় ফিফায়। তবে শেখ জামালের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, তাতে তাদের পুরোপুরি দোষারোপ করার সুযোগ নেই। বরং নিয়মভঙ্গের কারণে শাস্তি হওয়া উচিত ছিলো ওতাবেকের।

ফিফা অবশ্য ওতাবেকের অভিযোগের ভিত্তিতে জামালকে বিদেশী খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাতে এখনই বড় কোন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না জামালকে। মধ্যবর্তী দলবদলে ভিনদেশী না বদলালে এই মৌসুমেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে বড় বিপদেই পড়তে হতে পারে তাদের। সেটা থেকে নিস্তার পেতে ওতাবেকের দাবী অনুযায়ী মেটাতে হবে দু'মাসের বকেয়া ১৭ হাজার ডলার। 
অবশ্য ওতাবেকের এই অভিযোগ অবশ্য মানছেন না শেখ জামালের কর্তারা। এক শীর্ষ কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, 'ওতাবেক মিথ্যাচার করে আমাদের বিপদে ফেলেছে। তার সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল গত বছর জুলাই মাস পর্যন্ত। জুনের শুরুর দিকে সে আমাদের কাছে পারিবারিক প্রয়োজনে দেশে যাওয়ার জন্য ১০ দিনের ছুটি চায়। জুনের শুরুতে কিছু ম্যাচ খেলে সে ১০ তারিখের দিকে উজবেকিস্তান যায়। যাওয়ার আগে আমাদের কাছে জুনের বেতন অগ্রিম দাবী করে। আমরা তখন সেটা তাকে দেইনি। দশ দিনের ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সে আর ক্যাম্পে ফিরেনি। আমরা তাকে ভিসা দেওয়ার জন্য উজবেকিস্তানের দূতাবাসে নিয়ম অনুযায়ী আবেদনও জানিয়েছিলাম। তবে সে ভিসার আবেদন করেনি। বেশ কিছুদিন পর সে আমাদের কাছে ২ মাসের বেতন দাবী করে। সেটা না দিলে ফিফায় নালিশ করার হুমকি দেয়। জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত সে আমাদের ক্যাম্পে ছিল। এরপর দশদিনের ছুটি মন্জুর করা হয়। জুন মাসের বেতন নিয়ম অনুযায়ী তার পাওয়ার কথা জুলাই মাসে। আমরা হয়তো সেটা তাকে দিতাম। কিন্তু সে যখন জুলাই মাসেরও বেতন দাবী করলো ক্যাম্পে যোগ না দিয়ে, তখন তো সেটা আমরা মেনে নিবো না।' তিনি যোগ করেন, 'ফিফা আমাদের অতীতে কোন কিছুই জানায়নি এ ব্যাপারে। এমনকি বাফুফেকেও তারা কিছু জানায়নি। আমরা দুই পক্ষই ১১ ডিসেম্বর জেনেছি বিষয়টি। এখন আমরা আমাদের বক্তব্য ফিফার কাছে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি।'

এ ধরণের ঘটনায় চিঠি প্রাপ্তির ৪৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি দু'পক্ষের নিস্পত্তি করার একটা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। নইলে পরবর্তীতে খেলোয়াড় নতুন করে অভিযোগ তুললে নেমে আসে আরও বড় শাস্তি। শেখ জামাল সূত্র অবশ্য জানিয়েছে ৪৫ দিনের মেয়াদ শেষের আগেই তারা বিষয়টি সূরাহা করে ফেলবে। ফিফার রায় মেনে ওতাবেককে ২ মাসের বকেয়া পরিশোধ করলেও, ছুটি নিয়ে ক্যাম্পে যোগ না দেওয়ার কারণে ওতাবেকের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনার পরিকল্পনাও করছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত