টিসি মূলে একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি না করায় জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ দুই নেতার বিরুদ্ধে কলেজের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই দুই নেতার নামে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই দুই ছাত্রলীগ নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের হিসাব শাখার কম্পিউটার কক্ষে এ ঘটনাটি ঘটে। মারধরের শিকার হওয়া কর্মচারীর নাম মো.হেলাল উদ্দিন। তিনি ওই কলেজের হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো.শামীম আহম্মেদ ও সহ-সভাপতি নাদিম হাসান জয়। ওই দুই নেতার নাম উল্লেখ করে আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মো.হেলাল উদ্দিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে এ ঘটনায় সকালে ওই দুই নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, মো.শামীম আহম্মেদ ও নাদিম হাসান জয়ের নেতৃত্বে কয়েকজন কলেজের সাধারণ শাখায় কম্পিউটার কক্ষে প্রবেশ করেন। শামীম আহম্মেদ টিসি মূলে একজন শিক্ষার্থীকে কলেজে ভর্তি করতে বলেন। তখন মো.হেলাল উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষের অনুমতি ব্যতীত ভর্তি তালিকায় এপ্রোভে অস্বীকৃতি জানান। পরে ওই দুজনের নেতৃত্বে তাকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করা হয়। তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করা হয়। এ সময় অধ্যক্ষ কলেজে উপস্থিত ছিলেন না। এক পর্যায়ে হিসাবরক্ষক হেলাল তাদের উপাধ্যক্ষের অনুমতি নিতে বলেন। পরে ওই ছাত্রলীগ নেতারা উপাধ্যক্ষের কাছে যায়।
উপাধ্যক্ষ হিসাব শাখায় গিয়ে হেলালের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি উপাধ্যক্ষকে বললে, তিনি বলেন এটা তো অধ্যক্ষের অনুমতি লাগবে। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে তারা হিসাবরক্ষক হেলালকে মারধর শুরু করেন। তারা এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা টেনে হিঁচড়ে তাকে (হেলাল) ওই কক্ষ থেকে বের করে অটোরিকশায় উঠিয়ে কলেজ থেকে বের করে নিয়ে যায়। অটোরিকশায় উঠিয়ে তাকে মারধর করতে-করতে পৌর কবরস্থানে নেওয়া হয়। তিনি জীবন বাঁচাতে ডাক-চিৎকার দিলে, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যান। এ সময় তারা (ছাত্রলীগ নেতা) তাকে রেখে পালিয়ে যান।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খাবীরুল ইসলাম খান বাবু বলেন, ‘কলেজে একটি অনাকঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র নেতাদের সাথে পরামর্শ করে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামীম আহম্মেদ ও সহ-সভাপতি নাদিম হাসান জয়কে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত দোষীসাব্যস্ত হলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সাংগঠনিক ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য সুপারিশ প্রেরণ করা হবে’।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো.হারুন অর রশিদ বলেন, ‘হিসাবরক্ষক হেলাল রাতে আমাকে বিষয়টি অবগত করেন। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি অবহিত করি। পরে শামীম ও জয়ের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
জামালপুর সদর থানার ওসি তদন্ত (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ওই কলেজের একজন কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছে। এখানে দুজনের নাম ও ৩ থেকে ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।’
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্যে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া ছাত্রলীগ নেতা মো.শামীম আহম্মেদের মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
