মজুদে চড়া চালের দাম

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৬ এএম

আমনের ভরা মৌসুমে চালের দাম বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, করপোরেট কোম্পানিগুলোর ধান মজুদের কারণেই চালের দাম চড়া। বিষয়টি আমলে নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় মজুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আট বিভাগের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘অবৈধ মজুদবিরোধী কার্যক্রম গতিশীল করতে করণীয়’ বিষয়ে মতবিনিময় করেন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, ইতিমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অবৈধ মজুদদার ধরা পড়েছে। সক্ষমতার বেশি কেউ মজুদ করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাক্ষিক রিপোর্ট দিচ্ছেন কি না সেটাও দেখতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া ধান চালের ব্যবসা করতে পারবে না। লাইসেন্স ছাড়া কেউ অবৈধ মজুদ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে আগের চড়া দামে চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। পাইকারি বাজারে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। মিনিকেট নাম দিয়ে যে চাল বিক্রি হচ্ছে সে চালের দাম প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ৩ হাজার ২৫০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া স্বর্ণা ও নাজিরশাইলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ ও প্রতি কেজি পাইজাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৩ থেকে ৫৫ টাকায়।

সবজির বাজারেও চড়া দামের উত্তাপ। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি সবজিতে অন্তত ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। নতুন আলু ৫০ টাকায় কিনতে পাওয়া গেলেও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। এ ছাড়া একটি লাউ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, ১০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি তালবেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সাদা গোলা বেগুনের দামও একই। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০, কাঁচা টমেটো ৪০ আর পাকা টমেটো কিনতে খরচ হচ্ছে কেজিতে ৫০ থেকে ৬০, মুলা ৪০ থেকে ৫০, করলা ৫০ থেকে ৬০, কাঁচকলা প্রতি হালি ২৫ থেকে ৩০, শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে।

জানতে চাইলে সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মুনশি মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ থাকায় কৃষক মাঠ থেকে সবজি কম সংগ্রহ করছেন। এতে করে রাজধানীর বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির সরবরাহ কমেছে। সব মিলিয়ে সবজির দাম বেড়েছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩০০, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩১০ থেকে ৩২০ আর দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ ও ডজন ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায়।

বাজারে গরুর মাংসের দাম কমালেও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী ছিল। এখন আবার বেড়ে ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। খাসির মাংস প্রতি কেজি ১০০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশ প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২১০, এক কেজি ওজনের রুই ৩২০ থেকে ৩৫০, দুই-আড়াই কেজি ওজনের ৪০০ থেকে ৪৫০ আর তিন কেজির বেশি ওজনের হলে দাম হাঁকা হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। মাঝারি ও বড় আকারের কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কই মাছ প্রতি কেজি ৩২০, পাবদা প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৫০০, চিংড়ি আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি ৬০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত