এখনই ঘরে ফিরছে না আ.লীগ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:৪০ পিএম

দলকে সরকারে বসিয়ে নেতাকর্মীদের দায়িত্ব-কর্তব্য শেষ হয়ে গেছে, এমনটা এবার মনে করছে না আওয়ামী লীগ। নানা শঙ্কা মাথায় রেখে এখনই মাঠ ছেড়ে ঘরে ফিরছে না সরকারি দল। অর্থাৎ এ বছরটা মাঠেই থাকছেন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন সরকারের পথচলা সুদৃঢ় না হওয়া পর্যন্ত মাঠে সরব থাকবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। অন্তত চলতি বছর ঢাকাসহ সারা দেশে দলীয় রাজনীতি চাঙ্গা রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। আজ সোমবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা শেষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে মাঠে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ সভায় নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও রাজনীতির গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা করা হবে বলে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন।

দেশি-বিদেশি বাধা-বিপত্তি ও চাপ উপেক্ষা করে ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে করেছে আওয়ামী লীগ। ২২৩ আসনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করেছে। মন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন গত ১১ জানুয়ারি। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি তৎপরতা থেমে গেছে, এমনটা মনে করছেন না আওয়ামী লীগের নেতারা। ফলে সরকারকে শক্ত অবস্থানে না নিয়ে দলকে মাঠ থেকে তুলে নিতে চান না তারা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের দাবি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সর্বস্তরে দল চাঙ্গা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নেতাকর্মীরা বছরের পুরোটা সময় মাঠে থাকুক, সেটাই চাইছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার চিন্তা, সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। ফলে এখনই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার উপযুক্ত সময় নয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে দলের নেতাকর্মীরা ৩৬৫ দিনই মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করে। সেই অর্থে কখনই ঘরে বসে থাকা হয় না আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। আসছে উপজেলা নির্বাচন। এ নির্বাচন কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজনীতি স্বাভাবিকভাবেই চাঙ্গা থাকবে।

আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিম-লীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বিএনপির এখনো বন্ধ হয়নি। বিএনপির অপকর্মের দাঁতভাঙা জবাব দিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আরও কয়েক মাস মাঠে থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, দলীয় সভাপতি ও টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও দলের নেতাকর্মীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানাননি।

দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করছে, বিএনপির চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করেই যাবে। ফলে দল ও সরকারের জন্য আশঙ্কা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো নিরপেক্ষ হয়নি বলেও আওয়ামী লীগ মনে করছে। দলের নেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাঁকা দৃষ্টি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর। তারাই বিএনপিকে ঘরে তুলে দিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষ হওয়া পর্যন্ত রাজনীতির মাঠ ছেড়ে ঘরে ফিরবে না আওয়ামী লীগ। কারণ নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরে গেলে আবার মাঠে নামানো সময়সাপেক্ষ বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর দুই নেতা বলেন, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার পরিকল্পনা হলো আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবে। সরকারের সহায়ক শক্তি হয়ে প্রতিপক্ষের রাজনীতির ওপর কড়া নজর রাখবে। কারণ বিভিন্ন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। ফাঁকা মাঠ পেলে বিএনপি দেশে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করবে। বিএনপিকে মাঠ দখলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাই চলতি বছর আওয়ামী লীগকে মাঠে থাকতে হবে। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে জেলা-উপজেলায় ভোট উৎসব থাকবে। ফলে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের অনুসারীরা মাঠে থাকবেন।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, চলতি বছর তৃণমূল আওয়ামী লীগের সংগঠন গোছানো হবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা-উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় নেতারা সারা দেশ সফর করবেন। এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মাঠে রাখা হবে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি সব চক্রান্ত সামাল দিয়ে সরকারে স্থিতিশীলতা এলে ঘরে ফিরে যাবেন তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচি পালন ও রাজনীতির মাঠে থেকে বিএনপির রাজনীতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আরাম-আয়েশের রাজনীতি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের করার সুযোগ হয় না। সুখে, দুঃখে মানুষের পাশে থেকেই বছর শেষ হয় সবার।’ তিনি বলেন, ‘সামনে উপজেলা নির্বাচন, সাংগঠনিক সফরও শুরু করবে আওয়ামী লীগ। ফলে ঘরে ফেরার সুযোগ কই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত