বিজিবি সদস্যকে গুলি করে হত্যা বিএসএফের

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:৫৮ এএম

যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহি মোহাম্মদ রইশুদ্দীন নিহত হয়েছেন। গত সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এরপর ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। সিপাহি মোহাম্মদ রইশুদ্দীন যশোর ৪৯ বিজিবির সদস্য। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

বিএসএফকে এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করতে দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে বিএসএফের কাছে ‘তীব্র প্রতিবাদলিপি’ পাঠানো হয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় সীমান্তে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

৪৯ যশোর বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জামিল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের ধান্যখোলা বিওপির জেলেপাড়া পোস্টসংলগ্ন এলাকায় ভারত থেকে আসা একদল গরু চোরাকারবারিকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসতে দেখে বিজিবির টহল দল। এ সময় টহল দলের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিলে তারা দৌড়ে ভারতের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবির টহল দলের সদস্য সিপাহি মোহাম্মদ রইশুদ্দীন চোরাকারবারিদের পেছনে ধাওয়া করতে করতে ঘন কুয়াশার কারণে দলছুট হয়ে পড়েন। প্রাথমিকভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও পরে জানা যায়, তিনি বিএসএফের গুলিতে আহত হয়ে ভারতের ভেতরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পরপরই বিজিবি-বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠক থেকে জানা যায়, ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই সৈনিকের মৃত্যু হয়েছে। এ বিয়য়ে বিএসএফকে সুষ্ঠু তদন্তকরার দাবি জানানোর পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে তীব্র প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে।

মোহাম্মদ রইশুদ্দীনের মৃতদেহ বাংলাদেশে দ্রুত ফেরত আনার বিষয়ে সব ধরনের  যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, তারা ভোররাতে অন্তত ৮ থেকে ৯ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। বিজিবি ক্যাম্পে পাচার হওয়া দুটো গরুকেও আটক রাখা হয়েছে। সীমান্তে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়দের দাবি। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ধান্যখোলা সীমান্তের জোলিপাড়া ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের রিজিওন কমান্ডার ও যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জামিল।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জামিল বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নিহত বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত আনার বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আপাতত আর কোনো তথ্য জানাতে পারছি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত