ইরাকের ভূমি ছাড়তে উদ্যোগী ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে। গাজায় চলতে থাকা যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন সেনা অবন্থানে লাগাতার হামলা হয়েছে। চারটি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, ইরাক থেকে সেনা ঘাঁটি তুলে নিতে বাগদাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জোটের তৎপরতার অংশ হিসেবে ইরাকে অবস্থান করছে মার্কিন সেনারা। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকটি মিত্র দেশের সেনারাও রয়েছে ইরাকে। আইএস এখন প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার মতো। তবুও ইরাক থেকে যাচ্ছিল না মার্কিন সেনারা।
এ অবস্থায় সূত্র জানিয়েছে, বাগদাদে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আলিনা রোমানোওস্কি ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেইনকে একটি চিঠি তুলে দিয়েছেন। গত বুধবার এই চিঠি তুলে দেওয়া হয়। এতে সেনা সরিয়ে নেওয়া নিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেছে, বাগদাদ একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ চিঠি পেয়েছে যা ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর পেশ করা হয়েছে।
মার্কিন সেনাদের ইরাক ত্যাগ করা নিয়ে বাগদাদকে যুক্তরাষ্ট্র শর্ত দিয়েছিল, তারা সার্বভৌম ইরাকের মাটি ত্যাগ করবে, তবে এর আগে তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে চালানো হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে এবার আরও তিনটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এসব শর্ত পরিত্যাগ করেই ইরাক ছাড়তে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। তবে প্রক্রিয়াটি দ্রুত হচ্ছে না, কয়েক মাস লাগতে পারে।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরাকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা করে যাচ্ছিল। সিরিয়া ও ইরাকে সব মিলিয়ে দেড় শতাধিক হামলার মুখে পড়ে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু। এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও হামলা করছে।
ওয়াশিংটনের হামলায় ইরাকি নাগরিক নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি দেশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু এতে প্রথমে সাড়া দেয়নি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন।
বর্তমানে ইরাকে আড়াই হাজারের মতো মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, সন্ত্রাস দমনে স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তা দিতে কাজ করছে তারা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও যুদ্ধজোটে রয়েছে। ইরাক থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা প্রথমে শোনা যায় গত বছরের আগস্টে। মাঝে এই আলোচনা থমকে যায়।
