আরসা আস্তানায় অভিযান

নির্দেশনা পেলেই পাহাড় থেকে নেমে হামলা করে তারা

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৪২ এএম

কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের পাশের গহিন লাল পাহাড়ে অভিযানের পর র‌্যাব জানিয়েছে, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার সদস্যরা ওই পাহাড়ে আস্তানা গেড়েছেন। শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা পেলেই তারা পাহাড় থেকে নেমে আসে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে টার্গেটের ওপর। পরে আবার ওই আস্তানায় ফিরে যায়।

গত বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে সেই লাল পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রসহ আরসার তিন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৫-এর কক্সবাজারের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, আরসার ওই আস্তানা থেকে ৫টি বিদেশি পিস্তল, ২টি রিভলবার, ৬টি ওয়ানশুটার গান, ১৬টি এলজি, ৬টি এসবিবিএল, ৬৯ রাউন্ড গুলি, ৩ রাউন্ড খালি খোসা, ৫১ দশমিক ৭১ কেজি বিস্ফোরক এবং ২৮টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।

যে তিন নেতাকে আটক করা হয়েছে তারা হলেন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) গান গ্রুপের কমান্ডার উসমান ওরফে মগবগি উসমান, একই গ্রুপের শুটার ইমাম হোসেন ও মাইন বিশেষজ্ঞ নেছার।

র‌্যাব কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আরসা প্রধান আতাউল্লাহ জুনুনি ও মাস্টার খালেদের নির্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লাল পাহাড়ে আস্তানা গেড়ে সেখানে অস্ত্র মজুদ করে আরসার একটি গ্রুপ। আতাউল্লাহ ও খালেদের নির্দেশে সেই সব অস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকা-ে ব্যবহার করেন তারা। এই আস্তনায় ছয় থেকে সাতজনের একটি গ্রুপ অবস্থান করার খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। তিনজন ছাড়া বাকিরা পালিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, মাস দুয়েক আগে আরসার গান গ্রুপ কমান্ডার সমিউদ্দিন র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলে পরে উসমানকে এ পদে নিযুক্ত করা হয়। আরসায় নাম লেখানোর আগে তিনি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। পরে ২০১৭ সালে উসমানের পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করে মিয়ানমার সরকার। তখন উসমান একটি একে-৪৭ রাইফেলসহ পালিয়ে আসেন এবং খালেদের সঙ্গে আরসায় যোগ দেন।

এই র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, উসমান ক্যাম্প-১৭-এর আব্দুল্লাহ ও কাছিমকে নিজ হাতে খুন করেছেন।

অন্যদিকে নেছারকে মাইন বিশেষজ্ঞ দাবি করে র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক বলেন, আরসার মাইন গ্রুপটি ১০ সদস্যের। নেছার একাই ৫০০-এর বেশি মাইন তৈরি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া গ্রেপ্তার ইমাম হোসেন দক্ষ শুটার। তিনি উসমানের গান গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য।

র‌্যাব সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করে উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত